২০২৬ সালে এসে ১২৪ ট্রিলিয়ন ডলারের মহা সম্পদ হস্তান্তর কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে। বেবি বুমার প্রজন্ম ধীরে ধীরে বিদায় নিচ্ছে এবং তারা যে বিপুল সম্পদ পরবর্তী প্রজন্মের কাছে রেখে যাচ্ছে, তাতে সমাজের অনেক কিছুই বদলে যাবে। বিশেষ করে দাতব্য খাতে পুরনো ধারা আর তরুণ প্রজন্মের ক্ষেত্রে কাজ করবে না বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্পদ হস্তান্তর শুরু হলেও এখনও দানের বড় একটি অংশ আসছে বয়স্ক প্রজন্মের কাছ থেকে, যা অলাভজনক সংস্থাগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্লুমের্যাং নামের একটি অলাভজনক সফটওয়্যার কোম্পানির প্রধান অপারেটিং ও ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার স্টিভ ইসম বলেছেন, সম্পদ হস্তান্তর নিয়ে সবাই জানে, এটি রেকর্ড পরিমাণ হবে, কিন্তু অনেক সংস্থাই এই সমস্যা মোকাবিলায় কী করবে তা বুঝে উঠতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে সম্পদের প্রবাহ বেড়ে যাওয়াটা সমস্যা কেন হবে, তা নিয়ে ধন্দ থাকতে পারে। ইসমের ব্যাখ্যা, স্থানীয় সংস্থাগুলো সমাজের ‘স্তম্ভ’ অর্থাৎ ধনী বেবি বুমারদের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরি করেছে। কিন্তু বেবি বুমারদের থেকে যত দূরে যাওয়া যায়, দান করার আগ্রহ তত কমে যায়। তিনি নিজের এলাকা ওমাহার একটি সংস্থার উদাহরণ দিয়ে বলেন, ষাট-সত্তরের দশকে সেখানে দান করা ছিল শহরের অভিজাতদের কাজ। সেই সময়ে যারা দান করতেন, তারাই আজও প্রধান দাতা। কিন্তু তাদের ছেলেমেয়েরা সেই দানে তেমন আগ্রহী নয়, আর নাতি-নাতনিরা তো একেবারেই নয়। তাই নতুন প্রজন্মকে কীভাবে যুক্ত করা যায়, সেটাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। এই প্রবণতার পেছনে রয়েছে আত্মীয়তার বোধ, বিশ্বাস এবং সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার অনুভূতি। ব্লুমের্যাং ও দ্য হ্যারিস পোলের যৌথ জরিপে দেখা গেছে, মিলেনিয়াল ও জেন-জেড প্রজন্ম দান করতে চায় কারণ এতে তারা ‘কোনোকিছুর অংশ’ মনে করতে পারে। এই আত্মীয়তার বোধ মিলেনিয়ালদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যারা বর্তমানে সবচেয়ে সক্রিয় দাতা প্রজন্ম। তিন-চতুর্থাংশ মিলেনিয়াল এই বছর আগের চেয়ে বেশি দান করার পরিকল্পনা করছে, যেখানে জেন-এক্স প্রজন্মের ৪৯ শতাংশ এবং বেবি বুমারদের মাত্র ৩৬ শতাংশ এমনটা বলেছে। তবে এর মানে এই নয় যে তারাই সবচেয়ে বেশি টাকা দিচ্ছে বা প্রধান দাতা হয়ে গেছে। সেরুলি অ্যাসোসিয়েটসের তথ্য অনুযায়ী, সম্পদ হস্তান্তরের সবচেয়ে বড় অংশ পাবে মিলেনিয়াল প্রজন্ম, তাই তাদের কাছাকাছি পৌঁছানোর কৌশল এখনই ঠিক করা জরুরি। এই অর্থ সমানভাবে বিতরণ হবে না। মোট সম্পদের অর্ধেকের বেশি আসবে মাত্র ২ শতাংশ পরিবারের কাছ থেকে, যারা ইতিমধ্যেই উচ্চ বা অতি উচ্চ সম্পদের অধিকারী। ওমাহাতে এই ঘনত্ব স্পষ্ট, যেখানে পারিবারিক ফাউন্ডেশনগুলো নেব্রাস্কার অলাভজনক তহবিলের প্রায় দ্বিগুণ সহায়তা করছে। ইসম জানান, সেখানে মাত্র পাঁচটি পরিবারের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। দীর্ঘমেয়াদি দাতা তৈরি করতে হলে সংস্থাগুলোকে এখনই কৌশল বদলাতে হবে। মূল বিষয় হলো আস্থা তৈরি করা, বিশেষ করে যখন মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব এবং বেড়ে যাওয়া জীবনযাত্রার খরচের কারণে দান করার সামর্থ্য সীমিত। দাতারা সংস্থাকে বিশ্বাস করতে চায়, কিন্তু তারা প্রমাণও দেখতে চায় যে তাদের টাকা সঠিক কাজে লাগছে। ব্লুমের্যাংয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮৫ শতাংশ সক্রিয় দাতা মনে করেন তাদের দান করা অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ৯৭ শতাংশ বলেছেন সংস্থাগুলো তাদের পছন্দের বিষয়গুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু এই আস্থা তৈরি করতে সময় লাগে, আর দাতারা চান তাদের দানের ফলাফল জানতে। ৯৪ শতাংশ দাতা জানিয়েছেন, সংস্থা যদি বলে তাদের টাকা কোথায় যাচ্ছে, তাহলে তারা দান করতে উদ্বুদ্ধ হন। একইভাবে ৯০ শতাংশ দাতা তাদের দানের প্রভাব সম্পর্কে শুনতে চান। একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে, দাতারা ‘৫০ ডলারে এক সপ্তাহের মুদি কেনা যাবে’ এই নির্দিষ্ট আবেদনে সাড়া দিয়েছেন ৮৮ শতাংশ বেশি, যা একটি সাধারণ আবেদনের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। ইসম প্রতি বছর নিজেও একটি পরীক্ষা চালান। ‘গিভিং টিউজডে’ উপলক্ষে তিনি ব্লুমের্যাংয়ের ২৪ হাজার গ্রাহকের মধ্যে ২৫ জনকে দান করেন এবং এরপর কী ঘটে তা পর্যবেক্ষণ করেন। কারও কারও কাছ থেকে সঙ্গে সঙ্গে ধন্যবাদ ও দানের কাজে লাগানোর তথ্য পাওয়া যায়, আবার কারও কাছ থেকে কিছুই শোনা যায় না। ইসম মনে করেন, এই প্রতিক্রিয়া না পেলে দাতা ধীরে ধীরে দূরে সরে যান। প্রথমে মানুষ কেন দেয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ইসম কর্মক্ষেত্রে দান করার প্রচারণার ধীর মৃত্যুর দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যা ছিল বাধ্যবাধকতার যুগের অংশ। কিন্তু তরুণ ও দূরবর্তী কর্মীদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি আর কাজ করছে না। তাই যেসব সংস্থা টিকে থাকতে চায়, তাদের উচিত এখনই ছোট ছোট দান ও স্বেচ্ছাসেবকদের যত্ন নেওয়া। ইসমের মতে, আজকের সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্যও প্রস্তুতি নিতে হবে সংস্থাগুলোকে।