স্টাডি ভিসার আবেদন গ্রহণ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়া চারটি দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিকল্প পথ খুলে দিচ্ছে যুক্তরাজ্যের একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। গত মার্চে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (হোম অফিস) নতুন করে আফগানিস্তান, মিয়ানমার, সুদান ও ক্যামেরুনের নাগরিকদের স্টাডি ভিসা আবেদন গ্রহণে স্থগিতাদেশ জারি করে। সরকারের ব্যাখ্য অনুযায়ী, এই দেশগুলোর থেকে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ যুক্তরাজ্যে পৌঁছে আশ্রয়ের (অ্যাসাইলাম) আবেদন জমা দেওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ভিসা স্থগিতের ওই পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরণের অনিশ্চয়তা তৈরি করে, যার ফলশ্রুতিতে ক্যাম্পাসে উপস্থিত থেকে পড়ার জন্য নির্ধারিত মর্যাদাসম্পন্ন শেভনিং স্কলারশিপের মতো বিভিন্ন বৃত্তি থেকেও তারা বঞ্চিত হন। প্রসঙ্গত, প্রতিবছর প্রায় পাঁচ ডজন শিক্ষার্থী এই চার রাষ্ট্র থেকে চিভনিংয়ের সুযোগ নিয়ে যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে যেতেন।
এই সংকট নিরসনে একটি নতুন উদ্যোগের নাম 'মোজাইক স্কলারশিপ' কর্মসূচি। এটি চালু করেছে শিক্ষাবিষয়ক বেসরকারি সংস্থা মোজাইক এডুকেশন। এর সহায়তায় কিংস কলেজ লন্ডন, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন, ইউনিভার্সিটি অব লেস্টার, ইউনিভার্সিটি অব নর্থ্যাম্পটন, ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট অ্যান্ড্রুজ, কার্ডিফ ইউনিভার্সিটি, বার্কবেক ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন, ইউনিভার্সিটি অব স্যালফোর্ড এবং অ্যাবেরিস্টউইথ ইউনিভার্সিটি — এই ৯টি ব্রিটিশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুযোগ করে দিচ্ছে। হায়ার এড পার্টনার্স ইউকে এই আয়োজনে সহায়তার ভূমিকা পালন করছে।
এই উদ্যোগটির বাস্তবায়ন পদ্ধতি পুরোপুরি হবে দূরশিক্ষণ বা ট্রান্সন্যাশনাল এডুকেশনের (টিএনই) মাধ্যমে, যার ফলে সংশ্লিষ্ট দেশের শিক্ষার্থীরা নিজ দেশে বসেই যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করতে পারবেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে, ভিসা স্থগিতের প্রতিকূলতায় নিপতিত এই চার দেশের নতুন আবেদনকারীদের জন্য একটি যুক্তরাজ্যের ডিগ্রি অর্জনের বাস্তবমুখী পথ বলতে এটিকেই চিহ্নিত করা হচ্ছে।
এই কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত ১৯টি সম্পূর্ণ অর্থায়নপ্রাপ্ত আসন নিশ্চিত করা গেছে। চলতি বছর আরও বিশ্ববিদ্যালয় এই কর্মসূচির সাথে জড়িত হলে তাদের অংশগ্রহণ সম্প্রসারিত হবে এবং সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থীকে এর মাধ্যমে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।




