চট্টগ্রামের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) কেন্দ্রে মঙ্গলবার বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস ও লিভার কেয়ার সোসাইটির পঞ্চম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এক সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে জানানো হয়, বিশ্বব্যাপী প্রতি ৩০ সেকেন্ডে একজন ব্যক্তি হেপাটাইটিসজনিত জটিলতায় প্রাণ হারাচ্ছেন। বছরে এই রোগে মৃত্যু হয় প্রায় ১৩ লাখ মানুষের। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বার্ষিক হেপাটাইটিসজনিত জটিলতায় প্রাণ হারান প্রায় ২২ হাজার মানুষ। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, আক্রান্তদের প্রায় ৯০ শতাংশই জানেন না তাদের শরীরে ভাইরাসটি বিদ্যমান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লিভার কেয়ার সোসাইটির সভাপতি ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হেপাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ একরাম হোসেন। আরও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক ওমর ফারুক। সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন লিভার কেয়ার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক তারেক শামস।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, হেপাটাইটিস নির্মূলে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, বরং সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তিনি লিভার কেয়ার সোসাইটির জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ উল্লেখ করেন, উপসর্গ না থাকলেও যারা ঝুঁকির মধ্যে আছেন তাদের জন্য হেপাটাইটিস পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, সময়মতো টিকা নেওয়া, নিয়মিত স্ক্রিনিং করা, বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই রোগে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী প্রায় ২৯ কোটি মানুষ হেপাটাইটিস বি বা সি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বসবাস করছেন বলে জানানো হয়। তবে অধিকাংশই তাদের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি জানেন না। উপসর্গহীনভাবে বছরের পর বছর শরীরে থাকা এই ভাইরাস একসময় লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশ্বব্যাপী লিভার ক্যানসারে প্রতি তিনটি মৃত্যুর মধ্যে দুটির পেছনে হেপাটাইটিস বি বা সি ভাইরাস দায়ী বলে বক্তব্যে উঠে আসে।

সুধী সমাবেশে পাঁচ শতাধিক হেপাটাইটিস আক্রান্ত রোগী, তাদের পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক, লিভার কেয়ার সোসাইটির সদস্য ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিনামূল্যে হেপাটাইটিস বি স্ক্রিনিং কর্মসূচি পরিচালিত হয়। পরে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। অনুষ্ঠানে লিভার কেয়ার সোসাইটির গত পাঁচ বছরের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।