চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ বর্তমানে ‘হ্যাপিলি সিঙ্গেল’—কখনো দেশে, কখনো বিদেশে কাজ ও নিজের মতো সময় কাটানোর মধ্যেই কাটছে তাঁর ব্যস্ত দিন। সম্প্রতি কোরবানির ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘মালিক’ সিনেমার পর তিনি আবার বিদেশে চলে যান। ওই ছবির আগেও দীর্ঘদিন দেশের বাইরে কাটিয়েছেন; তখন সনি লিভ অরিজিনালের সিরিজ ‘জ্যাজ সিটি’তে কাজ করেছেন, যেখানে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়। কাজের টানেই এভাবে ছুটে চলছেন শুভ, তবে তাঁর ‘বোহেমিয়ান’ জীবনে নতুন কোনো সম্পর্কের মায়াজাল তৈরি হবে কি না—এ প্রশ্ন ভক্তদের মনেও রয়েছে।

কিছুদিন আগে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ লিখে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন অভিনেতা। পরে স্পষ্ট হয়, এটি ব্যক্তিজীবনের কোনো ঘোষণা নয়; বরং চরকি অরিজিনাল চলচ্চিত্র ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এর ঘোষণা। তবু বাস্তব জীবনে কবে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ হবেন—এই কৌতূহল থেকে যায়। এ প্রসঙ্গে শুভ বলেন, জন্ম, মৃত্যু ও বিয়ে ওপরওয়ালা থেকে নির্ধারিত। তিনি এখন ‘হ্যাপিলি সিঙ্গেল’ হলেও উপলব্ধি হয়েছে, মানুষ বোধ হয় একা বাঁচার জন্য তৈরি হয়নি; একা বাঁচতে পারে না।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মাকে হারান আরিফিন শুভ। মায়ের মৃত্যুর পর ব্যক্তিজীবনের আরও কিছু ঘটনা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। একটা সময় নিজেকে অনেকটাই গুটিয়ে নিয়েছিলেন। সেই সময় পেরিয়ে জীবন ও সম্পর্ক নিয়ে তাঁর ভাবনায় এসেছে পরিবর্তন। শুভ জানান, মা চলে যাওয়ার পর ও বিভিন্ন ঘটনায় তিনি নিজেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিলেন। কিন্তু আস্তে আস্তে অনুধাবন করছেন, মানুষ একা জীবন ধারণ করে না। শুধু বৈবাহিক সম্পর্কই হতে হবে—তা নয়। তবে বিশেষভাবে বিয়ের কথা বললে, সম্পর্ক বা বিয়ে তাঁর জীবনে আবার আসতে পারে। সেটা ওপরওয়ালাই জানেন; যখন হবে, তখন হবে।

দেশের বাইরে থাকার কারণ শুধু কাজ, নাকি সেখানেই ঘর বাঁধবেন—এসব বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেননি তিনি। স্বভাবসুলভভাবে বলেন, ‘আকাশে চাঁদ উঠলে সবাই দেখতে পাবেন।’

একসময় জীবন নিয়ে অনেক পরিকল্পনা করতেন শুভ—কোন পথে, কীভাবে এগোবেন—সবই ছিল নির্দিষ্ট। এখন সেই চিন্তায় বদল এসেছে। জীবনকে আর খুব বেশি ছকে বাঁধতে চান না তিনি। শুভ বলেন, একটা সময় পরিকল্পনা করে জীবন এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা ছিল; সেটাকে ভুল বলবেন না। জীবনের একেক সময়ে একেক উপলব্ধি থাকে। তবে এই মুহূর্তে কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা কৌশল নেই। জীবনের গতি বা স্রোত যেভাবে যেদিকে নিয়ে যাবে, সেটাকে মেনে নিয়ে বাঁচার, উপলব্ধি ও উপভোগ করার প্রয়াস থাকবে। জীবনের স্রোতের সঙ্গে ভেসে থাকাটাই বোধ হয় শান্তিপূর্ণ জীবন। তিনি চেষ্টা করছেন স্রোতকে বোঝার এবং সে অনুযায়ী জীবনকে এগিয়ে নেওয়ার।

তাহলে জীবনের সেই স্রোত কি তাঁকে ‘হ্যাপিলি সিঙ্গেল’ থেকে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এর দিকে নিয়ে যাচ্ছে? নিজের জীবনের সে উত্তর আপাতত গোপনই রাখলেন তিনি। তবে পর্দার ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিয়ে ও দাম্পত্য নিয়ে নিজের উপলব্ধির কথা জানালেন। শুভ বলেন, হয়তো হাজার বছর ধরে একটা ধারণা বয়ে নিয়ে আসছি—এই-এই হলে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ হয়, আর না হলে হয় না। ইনস্টাগ্রামে দেওয়ার মতো ছবি না হলে, ও রকম কিছু না হলে হয়তো হয় না। কিন্তু বাস্তবতা অন্য জায়গায়। অনেক ছোট ছোট বিষয় থাকে, যা বিবাহিত জীবনকে স্থিতিশীল রাখে, সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। সেসব বিষয় সব সময় ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ ধরনের হয় না। সেগুলো আসে অনেক বোঝাপড়া, অনেক দেওয়া-নেওয়া, অনেক সমঝোতার পর। সুতরাং, ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ হলো ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এর পর কী হয়—সেই গল্প। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সেই স্রোত কোথায় নিয়ে যায়—সে উত্তর এখনও গোপন। কিন্তু পর্দার গল্পের মাধ্যমে তিনি জানালেন, বিবাহিত জীবনের স্থিতিশীলতা নির্ভর করে ছোট ছোট বোঝাপড়া ও সমঝোতার ওপর—যা সামাজিক মাধ্যমে প্রদর্শনের চেয়েও অনেক গভীর।