জনসমক্ষে জীবনের ধরণ বদলে গেলেও চুক্তিতে থাকা নৈতিকতা সংক্রান্ত শর্তগুলো (মোরালিটি ক্লজ) সেই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারেনি — এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মার্কিন অভিনেত্রী হেইডেন প্যানেটিয়ারের সাম্প্রতিক একটি প্রকাশনা ঘিরে এই আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে।

প্যানেটিয়ার জানিয়েছেন, প্রসাধনী প্রতিষ্ঠান নিউট্রোজেনা তাদের বিজ্ঞাপনে তাকে আর রাখতে চায়নি এবং এই সিদ্ধান্তের পেছনে চুক্তির সেই বিশেষ ধারাটিকে ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে সময়ের ব্যবধানে জনজীবনের সংজ্ঞা ও পরিধি অনেকটাই প্রসারিত হয়েছে, অথচ এই ক্লজগুলোর ভাষা ও প্রয়ােগ এখনও সেকেলে রীতিতেই আটকে আছে বলে পর্যবেক্ষকদের অভিমত।

এক সময়ে ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত পরিচয়ের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন ছিল, কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে সেই সীমানা কার্যত মুছে গেছে। একজন তারকার ব্যক্তিগত মতামত, পছন্দ কিংবা রাজনৈতিক অবস্থান সহজেই ব্র্যান্ডের ভাবমূর্তির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। ফলে ব্র্যান্ডগুলোর পক্ষে চুক্তির এমন ধারা প্রয়োগ করে যে কোনো সময়ে তারকাকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়, যা অনেক সময়ে অন্যায্য বা অপ্রয়োজনীয় বলে সমালোচিত হয়।

প্যানেটিয়ারের ঘটনাটি দেখিয়ে দেয়, কীভাবে এই পুরনো নিয়মগুলো আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। যদিও তার অভিযোগের সত্যতা নিয়ে নিউট্রোজেনার পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবুও এই ঘটনা চুক্তিনির্ভর শিল্পের মধ্যে একটি বড় ধরনের কাঠামোগত ত্রুটির দিকেই ইঙ্গিত করছে।