মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এখন চরম মাত্রায় পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর আরও বিমান হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন। তবে এই হুমকির সময় দেশটির নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র মজুত উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, যা বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। এই বন্ধের ফলে তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।
বাজার মূলত ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। সূচকগুলো বেশিরভাগই লাভের মুখ দেখেছে। অপরদিকে বর্তমান সংকটের শেষ কোথায় বা এর চূড়ান্ত লক্ষ্য কী তা স্পষ্ট নয়। কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্থান কৌশল কারও কাছেই নেই বলে প্রতীয়মান হয়।
একই সময়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যে চীন তার রপ্তানি কার্যক্রম মার্কিন শুল্ক আরোপের প্রভাব এড়িয়ে টিকে আছে। দেশটি শুল্কের বিরূপ প্রতিক্রিয়াকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না। অন্যদিকে প্রযুক্তি জগতে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অ্যাপল এবং ওপেনএআই নিয়ে ছড়িয়ে পড়া তীব্র জল্পনা-কল্পনা। প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যকার গোপনীয় ও উত্তপ্ত আলোচনার বিষয় নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার অর্থ শুধু ইরানের ওপর চাপ নয় বিশ্ব অর্থনীতির একটা প্রধান শিরা বন্ধ হওয়ার সমান। এই চ্যানেল দিয়ে বিশ্বের তেলের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়। এর ফলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ও বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে তারা সামরিক সমাধানের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। তবে মিসাইল স্টকপাইল কমে যাওয়া একটি জটিল কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
মার্কিন বাজারের বিনিয়োগকারীরা এই জটিল পরিস্থিতিতে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন। তবে এখনো বেশিরভাগ শেয়ারই লাভজনক অবস্থানে রয়েছে। চীনের দৃঢ় রপ্তানি পারফরম্যান্স বিশ্ব বাণিজ্যের অস্থিরতার মধ্যে একটি স্থিতিশীল উপাদান হিসেবে কাজ করছে। অ্যাপলের ওপেনএআই নিয়ে সম্ভাব্য অংশীদারিত্ব বা প্রতিদ্বন্দ্বিতার খবর প্রযুক্তি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চলছে।
সবমিলিয়ে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত অনিশ্চিত। হরমুজ প্রণালী ও ইরান ইস্যু যেকোনো মুহূর্তে বিশ্ব বাজারে বড় ধাক্কা দিতে পারে। ট্রাম্পের আরও হামলার হুঁশিয়ারি ও সীমিত সামরিক সক্ষমতা—এই অমীমাংসিত সমীকরণ সামনে রেখেই এগোচ্ছে বিশ্ব।



