মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের প্রধান স্কট বেসেন্ট বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে একটি বিশেষ স্বর্ণমুদ্রার নকশা জনসমক্ষে উপস্থাপন করেছেন। এই মুদ্রার এক পাশে খোদাই করা হয়েছে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিকৃতি। এর আগে গত মাসেই ট্রাম্পের মুখ সংবলিত ২৫০ ডলারের একটি ব্যাংকনোট উন্মোচনের খবর শিরোনামে এসেছিল। উল্লেখ্য, মার্কিন আইন অনুযায়ী কোন জীবিত ব্যক্তির ছাপ মুদ্রা বা নোটে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, ২০২০ সালে পাস হওয়া একটি আইনের আওতায় দেশটির ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের লক্ষ্যে বিশেষ নকশা তৈরি করা যেতে পারে, যা এই আইনি বাধাকে এড়িয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করে। মুদ্রাটির নকশা নিয়ে বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে বিস্তারিত জানিয়েছেন। পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইন গড উই ট্রাস্ট’ ও ‘লিবার্টি ১৭৭৬-২০২৬’ লেখাসহ ট্রাম্পের প্রতিকৃতি সম্বলিত এই মুদ্রাটি স্বাধীনতার চিরন্তন উত্তরাধিকার ও দেশপ্রেমের স্থায়ী প্রতীক হিসেবে সম্মানিত হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইউএস মিন্ট শীঘ্রই এই বিশেষ মুদ্রা তৈরি শুরু করবে। বেসেন্টের মন্তব্য অনুযায়ী, এই মুদ্রা আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি স্মরণীয় করে রাখার এবং আমেরিকান মূল্যবোধ উদযাপনের অংশ। তবে নকশাটি ফেডারেল কমিশন অব ফাইন আর্টস কর্তৃক অনুমোদিত ২৪ ক্যারেটের স্মারক মুদ্রার চেয়ে ভিন্ন। এটির নকশা বরং ইউএস মিন্টের প্রস্তাবিত সেমিকুইনসেন্টেনিয়াল ডিজাইনগুলোর একটির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবিত ব্যক্তির ছাপ ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা অতিক্রম করে এই মুদ্রা প্রবর্তনের প্রশাসনের পদক্ষেপ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। তবে প্রশাসন ইতোমধ্যেই ২০২০ সালের স্মারক আইনের আওতায় এই উদ্যোগকে বৈধ বলে দাবি করছে। গত কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্পের প্রতিকৃতি সম্বলিত বেশ কয়েকটি মুদ্রা ও নোট উন্মোচনের ঘটনা দেশটির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রসঙ্গত, এর আগে ২৫০ ডলারের নোট উন্মোচনের সময়েও একই ধরনের আইনি প্রশ্ন উঠেছিল। তখনো প্রশাসন একই আইনের আশ্রয় নিয়েছিল। বর্তমান স্বর্ণমুদ্রাটি কেবল সংগ্রহকারীদের জন্যই নয়, বরং একটি জাতীয় প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। তবে এর আইনি বৈধতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।