পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মদন মিত্র বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে দলত্যাগ করেছেন। তিনি বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কক্ষে গিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত জানান। মদন মিত্র বলেন, তিনি এক ঘর থেকে আরেক ঘরে গেছেন, কিন্তু তৃণমূলই রয়ে গেছেন। অর্থাৎ, তিনি তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরে যোগ দিয়েছেন।

দলত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা মুখ্যমন্ত্রীর ভ্রাতুষ্পুত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব শৈলীর তীব্র সমালোচনা করেন। মদন মিত্র বলেন, 'এখন ইডির চেয়েও ভয়ংকর হয়ে উঠেছেন অভিষেক।' তিনি দাবি করেন, তৃণমূলে গণতন্ত্রের বদলে হিটলারি কায়দায় শাসন চলছিল, যার কারণে তিনি দম বন্ধ অনুভব করছিলেন। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে যে তিনি টাকা নিয়ে কাউকে চাকরি দিয়েছেন, তবেই তা মানবেন। তিনি ২৭ মাস জেল খেটেও দলের বিরুদ্ধে কিছু বলেননি বলে উল্লেখ করেন।

তার এই দলত্যাগের পটভূমিতে রয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) একের পর এক তৎপরতা। সম্প্রতি ইডি মদন মিত্রের একাধিক বাড়ি ও দপ্তরে তল্লাশি চালিয়েছে। গত মঙ্গলবার ইডি তার স্ত্রী অর্চনা মিত্র ও দুই পুত্র স্বরূপ এবং অভিরূপ মিত্রকে তাদের কলকাতা কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করে। আগামী ২২ ও ২৩ জুলাই ব্যাংকের প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে তাদের হাজিরা দিতে হবে। এর আগে মদন মিত্রের বিরুদ্ধে কামারহাটি ও টিটাগড় পৌরসভায় বিপুল সংখ্যক লোককে চাকরি দেওয়ার জন্য অর্থ ও স্বর্ণ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

অন্যদিকে, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ আরও বিস্তৃত হয়েছে। লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ সাংসদের মধ্যে ২০ জন ইতোমধ্যে দল ছেড়ে ন্যাশনাল সেন্টার ফর পলিটিক্যাল ইনোভেশন (এনসিপিআই)-এ যোগ দিয়েছেন। এই দলের সংসদীয় দলনেতা নির্বাচিত হয়েছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তারা লোকসভা স্পিকার ওম বির্লার কাছে স্বীকৃতি চেয়ে আবেদন করেছেন। ২০ জুলাই শুরু হতে যাওয়া লোকসভার বর্ষাকালীন অধিবেশনে তাদের আলাদাভাবে বসার অনুমতি দিতে পারেন স্পিকার বলে আশা করছে এনসিপিআই। দলটির মুখ্য সচেতক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং ডেপুটি লিডার হিসেবে শতাব্দী রায়কে মনোনীত করা হয়েছে।