আগামী সপ্তাহেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৫০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা। প্রতিটি বিসিএসের ভাইভায় প্রশ্নের একটি নির্দিষ্ট ধরন থাকে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। কমিশনের সদস্য পরিবর্তন এবং সরকারের বর্তমান নীতি ও কর্মপরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে এই প্রশ্নের ধরন নির্ধারিত হয়। তাই পূর্ববর্তী বিসিএসগুলোর প্রশ্নের ধরনের সঙ্গে বর্তমান পরীক্ষার ধরনের পার্থক্য খুঁজে বের করে সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

সর্বশেষ অনুষ্ঠিত ৪৭তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষার প্রশ্নগুলো সংগ্রহ করে সেগুলো বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। বোর্ড ও ক্যাডারভিত্তিক প্রশ্নগুলো একসঙ্গে কয়েকজন মিলে গ্রুপ স্টাডির মাধ্যমে উত্তর প্রস্তুত করা ভালো। দৈনিক পত্রিকা, গাইড বই এবং ফেসবুকের বিভিন্ন বিসিএস ভাইভা গ্রুপে অনেক প্রার্থী তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, যা কাজে লাগানো যেতে পারে।

বাংলা ও ইংরেজিতে নিয়মিত জিজ্ঞাসিত প্রশ্নগুলোর উত্তর অন্যের লেখা বা গাইড বই থেকে মুখস্থ না করে নিজের ভাষায় লিখে সেগুলো বাসায় উচ্চারণ করে অনুশীলন করা উচিত। যেমন— Introduce yourself, Describe your district, Activities from last night to viva board, প্রথম পছন্দের ক্যাডার কেন, অনার্স বিষয়ের সঙ্গে ক্যাডার পছন্দের সামঞ্জস্য, নিজের নামের অর্থ, নামের সাথে মিল রেখে কোনো বিখ্যাত ব্যক্তির জীবনী প্রভৃতি।

৪০তম বিসিএসের পর থেকে তথ্যমূলক প্রশ্নের পাশাপাশি বিশ্লেষণধর্মী, পরিস্থিতিভিত্তিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রশ্নও করা হচ্ছে। এসব প্রশ্নের উত্তরে দুই-তিন মাসের প্রস্তুতির চেয়ে প্রার্থীর বুদ্ধিমত্তা, জীবনের অভিজ্ঞতা ও কথা বলার সাবলীলতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যেমন— "চাকরি পেলে সৎ থাকবেন প্রমাণ দিন"— এই প্রশ্নের উত্তরে নিজের জীবনের সততার বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরা যেতে পারে। "ভিক্ষুক কীভাবে ট্যাক্স দেয়?", "আঠারো হাজার আঠারো শ আঠারো অঙ্কে লিখুন", "Suppose I am an US investor, convince me to invest in your country"— এমন প্রশ্নগুলোর জন্যও মানসিক প্রস্তুতি রাখা প্রয়োজন।

প্রথম পছন্দ প্রশাসন ক্যাডার হলে "নারী দিবসে জেলা প্রশাসকের বক্তব্য", পুলিশ ক্যাডার হলে "মাদকবিরোধী অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপারের বক্তব্য" এবং সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার হলে "ডেমো ক্লাস" দিতে হতে পারে। তাই এসব বিষয়ে তথ্য, উপস্থাপনার কৌশল ও মানসিক প্রস্তুতি রাখা দরকার।

নতুন সরকার, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, পছন্দের ক্যাডার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সরকারের সাম্প্রতিক উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে প্রেস ব্রিফিং, সরকারি ওয়েবসাইট ও পত্রিকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে গুছিয়ে নেওয়া উচিত। ভাবী সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে সরকারের সার্বিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ধারণা রাখা ও বিশ্লেষণ দক্ষতা যাচাই করা হতে পারে।

দেশের ইতিহাস ও খ্যাতনামা ব্যক্তিদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সাবেক উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, মেজর জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীসহ মুক্তিযুদ্ধ, জুলাই অভ্যুত্থান ও বাংলাদেশের উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সম্পর্কিত তথ্যগুলো মনে রাখতে হবে। রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় বিচক্ষণ দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখতে হবে। নিজের ব্যক্তিগত তথ্য, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা এবং অনার্স বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিজে নিজে নোট করা ভালো। নিজের নামের অর্থ, নামের সাথে মিল রেখে কোনো বিখ্যাত ব্যক্তি, জন্মতারিখ বা সালের উল্লেখযোগ্য ঘটনা, প্রতিষ্ঠানপ্রধানের নাম, সেখানে পড়াশোনা করা বিখ্যাত ব্যক্তি, নিজ জেলার উপজেলা সংখ্যা, নদী, দর্শনীয় স্থান, আসন ও সংসদ সদস্যদের নাম, অনার্সের কোর্সের নাম ও মৌলিক তথ্য থেকে প্রশ্ন আসতে পারে।

ক্যাডার পছন্দের তালিকার প্রথম তিনটি ক্যাডার সম্পর্কে গভীরভাবে পড়াশোনা করতে হবে। প্রশাসন ক্যাডার পছন্দ করলে জনপ্রশাসনমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব, পদসোপান, ভূমি সংক্রান্ত ধারণা ও দণ্ডবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধি, মোবাইল কোর্ট আইন সম্পর্কে জানতে হবে। পুলিশ ক্যাডার পছন্দ করলে পুলিশ আইন, পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গল, পুলিশ সংস্কার কমিশন, পুলিশকে জনবান্ধব করার উদ্যোগ ও আধুনিকায়ন সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। স্বাস্থ্য ক্যাডার পছন্দ করলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি রোগীর চিকিৎসা, রোগের ধরন, হায়ার সেন্টারে রেফারেল প্রক্রিয়া, মেডিক্যাল ইনস্ট্রুমেন্টের ব্যবহার, স্যালাইনের কম্পোজিশন এবং পদসোপান সম্পর্কে জানা জরুরি।

সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ, সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড ও সুবিধা, জাতীয় বেতন স্কেল, জুলাই গণহত্যার বিচার কার্যক্রম, প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর ও চুক্তি, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কসহ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সমসাময়িক বিষয় সম্পর্কে সঠিক তথ্য রাখতে হবে। বিশ্বকাপ ফুটবল-২০২৬, রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, অর্থনৈতিক ও জলবায়ু সম্মেলন প্রভৃতি বিষয়েও খোঁজ রাখা দরকার। পরীক্ষার দিন সকালের পত্রিকার শিরোনামগুলো একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া উচিত, কারণ বোর্ডের টিভি স্ক্রিন বা সেই দিনের খবর থেকেও প্রশ্ন আসতে পারে।