প্রযুক্তিপ্রেমী ও কর্মজীবীদের জন্য সুখবর দিয়েছে সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে দক্ষতা অর্জনে ইচ্ছুকদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অনলাইন কোর্সের ব্যবস্থা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রত্যাশী কিংবা চাকরিজীবীরা এই কোর্সে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। কোর্সগুলো সফলভাবে সমাপ্ত করতে পারলে অংশগ্রহণকারীদের গুগলের তরফ থেকে বিনামূল্যে একটি ডিজিটাল ব্যাজ বা সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে, যা তারা তাদের পেশাগত জীবনবৃত্তান্ত বা অনলাইন প্রোফাইলে যুক্ত করতে পারবেন।
গুগল ক্লাউডের 'জেনারেটিভ এআই লার্নিং পাথ' প্রোগ্রামের আওতায় এসব কোর্স পরিচালিত হচ্ছে। কোর্সগুলো স্বল্প সময়ের হওয়ায় কর্মব্যস্ত মানুষের জন্যও এগুলো অত্যন্ত উপযোগী। যেকোনো সময় কোর্স শুরু করা যায় বলে এখানে নিবন্ধনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো আবেদনের শেষ তারিখ নেই। উল্লেখ্য, এই কোর্সে আবেদনের জন্য কোনো ফি দিতে হয় না বলেও জানানো হয়েছে।
গুগল এআই-সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক কোর্স উন্মুক্ত করেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হলো:
১. জেনারেটিভ এআই পরিচিতি: এই প্রাথমিক কোর্সে জেনারেটিভ এআই কী, এর ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং প্রচলিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে এর পার্থক্য সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। কোর্সটির সময়কাল প্রায় ৪৫ মিনিট।
২. বৃহৎ ভাষা মডেল (এলএলএম) পরিচিতি: বৃহৎ ভাষা মডেলগুলো কীভাবে কাজ করে এবং কোথায় সেগুলো ব্যবহার করা হয়, তা নিয়ে প্রায় ৪৫ মিনিটের এই কোর্সটি তৈরি।
৩. দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) পরিচিতি: দায়িত্বশীল এআই বলতে কী বোঝায়, কেন এটি অপরিহার্য এবং গুগল কীভাবে নিজেদের পণ্য ও পরিষেবায় এই নীতি প্রয়োগ করছে, তা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হয়েছে এই কোর্সে।
৪. ভার্টেক্স এআই-এ প্রম্পট ডিজাইন: কার্যকর প্রম্পট লেখার কৌশল, প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং, জেনারেটিভ এআই থেকে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনের উপায় এবং ছবি বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন ব্যবহারিক দক্ষতা শেখানো হয় এই কোর্সে। কোর্সটির মোট সময়কাল প্রায় ৫ ঘণ্টা ১৫ মিনিট।
৫. গুগল ক্লাউডে এআই নীতিমালার প্রয়োগ: বাস্তবক্ষেত্রে দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নীতিমালা কীভাবে প্রয়োগ করা হয় এবং গুগল ক্লাউডে সেগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হয়, তা নিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টার একটি কোর্স।
এসব কোর্সে আবেদনের জন্য বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থী বা আগ্রহী ব্যক্তি অংশ নিতে পারবেন। আবেদনকারীর বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা বা একাডেমিক বিষয়ে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি। ফলে বিভিন্ন পেশা ও শিক্ষাক্ষেত্রের মানুষ সহজেই এই কোর্সে নিবন্ধন করতে পারবেন।
যারা এই কোর্সগুলো সম্পন্ন করবেন, তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মৌলিক বিষয়গুলো বিনামূল্যে শেখার পাশাপাশি গুগলের ডিজিটাল ব্যাজ অর্জনের সুযোগ পাবেন। এই সার্টিফিকেট তাদের কর্মজীবনে যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।
আগ্রহীদের প্রথমে গুগল ক্লাউডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। এরপর পছন্দমতো কোর্স বেছে নিয়ে ভিডিও, পাঠ্যসামগ্রী, কুইজ ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। সবগুলো ধাপ সফলভাবে শেষ করলে অংশগ্রহণকারী তার প্রোফাইল থেকে ডিজিটাল ব্যাজ বা সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে পারবেন। যেহেতু নিবন্ধনের কোনো শেষ তারিখ নেই, তাই সুবিধামতো সময়েই শুরু করা যাবে।




