চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে সোমবার। যেসব শিক্ষার্থী প্রকাশিত ফলাফলে সন্তুষ্ট নয়, তারা এবারও ফল পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছে। পুনর্নিরীক্ষণের জন্য শিক্ষার্থীদের এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। তবে এবারের আবেদন প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে, যা আগের বছরগুলোর চেয়ে ভিন্ন।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে সোমবার যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, ফলাফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা আগামী ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত পুনর্নিরীক্ষার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই বছর আবেদনপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা হতে পারে।

পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে যেতে হবে। সেখানে গিয়ে নির্ধারিত স্থানে রোল নম্বর এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর পূরণ করতে হবে। এরপর ড্রপ ডাউন তালিকা থেকে নিজ নিজ বোর্ড নির্বাচন করতে হবে। সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করে সাবমিট বাটনে ক্লিক করতে হবে। এর পরবর্তী ধাপে মোবাইল নম্বর প্রদান করতে বলা হবে। পুনর্নিরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলে সেই নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।

মোবাইল নম্বর দেওয়ার পর স্ক্রিনে শিক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক ফলাফল প্রদর্শিত হবে। সেখান থেকে এক বা একাধিক বিষয় নির্বাচন করে 'ফি প্রদান করুন' বাটনে ক্লিক করতে হবে। প্রতি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা হারে ফি প্রযোজ্য হবে। যে সকল বিষয়ে দুইটি পত্র রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে উভয় পত্রের জন্যই আবেদন করতে হবে। ফি পরিশোধের পরবর্তী স্ক্রিনে মোট প্রদেয় ফির পরিমাণ দেখা যাবে।

ফি পরিশোধের জন্য বিকাশ, নগদ এবং সোনালী সেবা ব্যবহার করা যাবে। ফি পরিশোধের বিস্তারিত ধাপ সম্পর্কে জানতে পোর্টালের 'হেল্প' বাটনে ক্লিক করে দেখে নেওয়া যাবে। ফি পরিশোধের পর পুনরায় পোর্টালে এসে 'জমা দিন' বাটনে ক্লিক করতে হবে। একবার ফি পরিশোধ করে আবেদন জমা দেওয়ার পর কোনো শিক্ষার্থী আরও বিষয় যুক্ত করতে চাইলে আগের মতোই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। তবে সেক্ষেত্রে নতুন করে মোবাইল নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

ফি পরিশোধের আগে যদি শিক্ষার্থীরা তাদের আবেদনে কোনো পরিবর্তন বা পরিমার্জন করতে চান, তাহলে 'মুছে ফেলুন' বাটনে ক্লিক করে সেইসব বিষয় প্রত্যাহার করা যাবে যেগুলোর জন্য এখনও ফি দেওয়া হয়নি। এরপর নতুন করে বিষয় নির্বাচন করা যাবে। কিন্তু একবার ফি জমা দিলে আবেদনকৃত বিষয়গুলো আর বাতিল করা যাবে না এবং কোনো অবস্থাতেই ফি ফেরত দেওয়া হবে না। উল্লেখ্য, এবার কোনো ম্যানুয়াল আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী, যেখানে ছাত্রীদের সংখ্যা বেশি।