দেশের গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ধস নামার পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও অন্তত দেড় সপ্তাহ সময় প্রয়োজন। সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘নেভিগেটিং গ্লোবাল শিফটস: ফস্টারিং এনার্জি সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ তথ্য দেন। বৈঠকটি আয়োজন করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস)।

গত মঙ্গলবার কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালে (এফএসআরইউ) আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর থেকেই টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। মন্ত্রী জানান, বর্তমানে মেরামতের কাজ চলছে। এই বিভ্রাটের কারণে দুটি এলএনজি কার্গো খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় রান্নার কাজে বিঘ্ন ঘটছে, সেইসঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতেও জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।

বেশির ভাগ সিএনজি ফিলিং স্টেশনই এখন কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে বা অত্যন্ত কম চাপে গ্যাস দিচ্ছে। চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। হাজারীবাগের মতো এলাকায় দৃশ্যটি ভয়াবহ। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন মোট গ্যাসের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশই আসে এলএনজি থেকে, যার সর্বোচ্চ সরবরাহ ক্ষমতা ১০৫ কোটি ঘনফুট। কিন্তু এক্সিলারেটের টার্মিনালে আগুন লাগার পর বৃহস্পতিবার এলএনজি থেকে পাওয়া গেছে মাত্র ৫৬ কোটি ঘনফুট, রোববার তা ৫০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে আসে। ফলে দেশে মোট দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ২১৫ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে গেছে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করেও ৩৮০ কোটি ঘনফুট চাহিদা মেটানো সম্ভব হতো না। বর্তমানে সব ধরনের গ্রাহকই চরম সংকটে পড়েছেন।

জ্বালানিমন্ত্রী আরও জানান, দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের নিজস্ব উৎপাদন কমে যাওয়ায় এখন এলএনজি ও এলপিজিসহ বিভিন্ন জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এই জ্বালানির দামও অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। গত ছয় মাসে প্রায় ৩ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি আমদানি করতে হয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে। বিদ্যুৎ খাতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বিল বকেয়া রয়েছে। নিয়মিত বিল পরিশোধ করতে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

সংকট মোকাবিলায় সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে নজর দিয়েছে বলে জানান ইকবাল হাসান মাহমুদ। সম্প্রতি সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ঘোষণা করেছে, যার লক্ষ্য আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন। আগস্ট মাসের মধ্যেই এ কার্যক্রম শুরু করার জন্য দরকষাকষি ও জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে ততদিন পর্যন্ত দেশের মানুষকে গ্যাস সংকটের ভোগান্তি সহ্য করতে হবে বলেই মন্তব্য করেন তিনি।