কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের স্কুলপাহাড় এলাকায় সোমবার এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই সহোদরা নারীসহ তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। বিপরীতমুখী একটি ট্রাক ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মধ্যে এ সংঘর্ষ ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে আরও তিন যাত্রী গুরুতর আহত হন এবং তাঁদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনাটি বেলা দুইটার দিকে ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী আবদুল গফুরের বরাতে জানা গেছে, তিনি নিজ সন্তানদের কোচিংয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে চোখের সামনেই এই মর্মান্তিক ঘটনা দেখতে পান। তাঁর ভাষ্যমতে, ট্রাক ও সিএনজির মধ্যে সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষের পরই হতাহতের ঘটে। নিহতরা সকলে অটোরিকশারই যাত্রী ছিলেন।

হতাহতদের পরিচয় সম্পর্কে পুলিশ জানায়, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রুবিনা আক্তার এবং তাঁর বোন শাহিনা আক্তার। এই দুই বোন উখিয়া উপজেলার হরিণমারা এলাকার বাসিন্দা জাফর আলমের কন্যা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণকারী এক পুরুষ যাত্রীর পরিচয় সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়রা দ্রুত অভিযান চালিয়ে ধ্বংসস্তুপ থেকে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনামতে, দুই বোন পারিবারিক একটি মামলার কার্যকারনে সকালে উইয়া থেকে কক্সবাজার আদালতে হাজিরা দিতে আসেন। আদালতের কার্যসম্পাদনের পর ফেরার উদ্দেশ্যে তাঁরা বেলা দেড়টার দিকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। যানটি বেলা দুইটার দিকে স্কুলপাহাড়ে পৌঁছুলে উল্টো দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি ট্রাকে সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

হতাহতদের মধ্যে অটোরিক্সার চালকও ছিলেন; গাড়িটিতে সর্বমোট ছয় জন আরোহী ছিলেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। রামু হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুকান্ত চক্রবর্তী এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে। অপর তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনাস্থলে নিহত পুরুষটি ঘটনাস্থলেই শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এবং দুই বোন হাসপাতালে নেওয়ার পথে ও চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে মৃত্যুবরণ করেন। ওসি আরও জানান, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।