সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবারের মান নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, শিক্ষার্থীদের কাছে কোনো নিম্নমানের বা নষ্ট খাবার পৌঁছানো যাবে না। এ ব্যাপারে শিক্ষক, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সর্বদা সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি বলেন, খাবারের মান নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে রিপোর্ট করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

সোমবার দুপুরে সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) মিলনায়তনে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি প্রকল্পের ওরিয়েন্টেশন ও শিক্ষার মানোন্নয়নবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।

প্রাথমিক শিক্ষা খাতে অনেক ইতিবাচক কাজ হচ্ছে কিন্তু সেগুলোর সঠিক প্রচার না হওয়ায় নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন ববি হাজ্জাজ। তাঁর মতে, এই নেতিবাচক ব্র্যান্ডিংয়ের বিরুদ্ধে শিক্ষকদেরই এগিয়ে আসতে হবে। তিনি শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান, স্থানীয় জনগণকে সব কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। স্কুলে ‘বন্ধু রেজিস্টার’ চালু করার প্রস্তাব দেন তিনি, যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজেদের মতামত ও পরামর্শ দিতে পারবেন। ভালো কাজগুলো সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরারও তাগিদ দেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন ববি হাজ্জাজ। তাঁর ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ীই তারা কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিটি উদ্যোগ দেশ ও মানুষের কল্যাণে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। শিক্ষকদের পে-স্কেল ও সম্মানী উন্নয়নের জন্য কাজ চলছে বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের সঠিক মর্যাদা দিতে চাই। সে জন্য নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। তাই শিক্ষকদের দায়িত্ববোধ বাড়াতে হবে। সফলতা আসবে সম্মিলিত প্রচেষ্টায়, কারও একক চেষ্টায় নয়।’

হাওর এলাকার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে চিন্তাভাবনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সুনামগঞ্জ একটি হাওর এলাকা। এই প্রকল্পে এখন পাইলটিং চলছে। ইতোমধ্যে আমরা সুনামগঞ্জের প্রায় অর্ধেক স্কুলকে এতে যুক্ত করেছি। বর্ষাকালে কীভাবে শিক্ষার্থীদের স্কুলে বেশি করে উপস্থিত রাখা যায়, সেটা ভাবছি। পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুর রহিম, ফিডিং কর্মসূচি প্রকল্পের পরিচালক আবু আমিন, জেলার পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস ও পিটিআইয়ের সুপারিনটেনডেন্ট দীপঙ্কর মোহান্ত।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই পিটিআই চত্বরে শিক্ষার্থীদের আঁকা গ্রাফিতি পরিদর্শন করেন ববি হাজ্জাজ। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ছবি তোলেন। পরে মতবিনিময় সভা শেষে জেলার তাহিরপুর উপজেলার তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান প্রতিমন্ত্রী।