জনপ্রিয় মার্কিন অভিনেত্রী জেনিফার গার্নার তাঁর প্রতিষ্ঠিত জৈব শিশু খাদ্য ব্র্যান্ড 'ওয়ান্স আপন আ ফার্ম'-এর প্রতি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি মনোযোগী হয়েছেন। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর প্রথম ছয় মাসে এই কোম্পানির নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পেয়েছেন বলে জানান। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, একটি পাবলিক কোম্পানির দায়িত্ব পালন করা সম্পূর্ণ ভিন্ন চ্যালেঞ্জ, যা তাঁকে উদ্যোক্তা হিসেবে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে।

শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও জৈব খাবার সরবরাহের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে গার্নার কেবল মুখ নয়, ব্যবসার প্রতিটি স্তরে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। প্রতিষ্ঠানটির পণ্য বর্তমানে দেশজুড়ে বহু পরিবারের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। গার্নার মনে করেন, শিশুদের পুষ্টি নিয়ে বাবা-মায়েদের উদ্বেগ দূর করাই এই ব্র্যান্ডের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনও সমান গুরুত্বপূর্ণ, তাই কোম্পানিটি মানসম্পন্ন উপকরণ ব্যবহার এবং টেকসই উৎপাদন প্রক্রিয়ার ওপর জোর দিচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনায় নারী উদ্যোক্তাদের ভূমিকা তুলে ধরে গার্নার বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও দূরদর্শিতা অত্যন্ত জরুরি। পাবলিক কোম্পানি হওয়ার কারণে এখন প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য বিনিয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জবাবদিহি করতে হচ্ছে, যা ব্যবসাকে আরও সুসংহত করেছে। তিনি জানান, এই যাত্রায় ভোক্তাদের কাছ থেকে পাওয়া প্রতিক্রিয়া তাঁদের নতুন পণ্য উদ্ভাবনে বিশেষভাবে সহায়তা করছে। করোনা-পরবর্তী বাজারে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে জৈব খাবারের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা এই খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে গার্নার ইঙ্গিত দেন, দেশের বাইরেও বাজার সম্প্রসারণের চিন্তা রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, মান নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেই শুধু সম্প্রসারণ সম্ভব। নিজের ব্যক্তিগত জীবন এবং পেশাগত দায়িত্বের ভারসাম্য বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ নিয়েও তিনি কথা বলেন, যেখানে পরিবারের সহযোগিতা তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন। সবশেষে তিনি বলেন, 'ওয়ান্স আপন আ ফার্ম' কেবল একটি ব্যবসা নয়, এটি শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার একটি প্রত্যয়, যা থেকে তিনি কখনোই সরে আসবেন না।