প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬-এর বাংলা বিষয়ের বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর প্রকাশিত হয়েছে। এগুলো পরীক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক হবে বলে মনে করছেন শিক্ষকরা। প্রশ্নগুলোতে বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ভাষা বৈচিত্র্য, ধর্মীয় ও জাতিগত উৎসবের বৈচিত্র্য, দেশের সমৃদ্ধিতে নানা পেশার মানুষের অবদান এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পোশাক-পরিচ্ছদের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে।

প্রথম প্রশ্নে বাংলাদেশে ভাষার বৈচিত্র্যের কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। উত্তরে বলা হয়েছে, দেশে বাঙালি ছাড়াও চাকমা, মারমা, মুরং, তঞ্চঙ্গ্যা ও সাঁওতালসহ নানা জাতিগোষ্ঠী বসবাস করে। প্রতিটি গোষ্ঠীর নিজস্ব মাতৃভাষা রয়েছে এবং তারা সে ভাষায় কথা বলতে পছন্দ করে। সবাই বাংলাদেশি হওয়ায় বাংলার পাশাপাশি এসব ভাষাও ব্যবহৃত হয়, ফলে ভাষায় বৈচিত্র্য দেখা যায়।

দ্বিতীয় প্রশ্নে বাংলাদেশের উৎসবের বৈচিত্র্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এখানে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের ভিন্ন ভিন্ন ধর্মীয় উৎসব রয়েছে—ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, দুর্গাপূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা ও বড়দিন। পাশাপাশি নববর্ষ, সাংগ্রাই ও বিজুর মতো জাতিগত উৎসবও পালিত হয়। ধর্মীয় ও জাতিগত বৈচিত্র্যের কারণে উৎসবগুলোও বৈচিত্র্যপূর্ণ।

তৃতীয় প্রশ্নে বাংলাদেশের সমৃদ্ধির পেছনে পেশাজীবীদের অবদান চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে। উত্তরে কৃষক, জেলে, কামার, কুমার ও তাঁতির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের পরিশ্রমেই দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে এবং অর্থনৈতিকভাবে এগিয়েছে।

চতুর্থ প্রশ্নে বাংলাদেশের মানুষের পোশাক-পরিচ্ছদের পরিচয় দিতে বলা হয়েছে। উত্তর অনুযায়ী, দেশের সব জাতিগোষ্ঠীর পোশাকে বৈচিত্র্য রয়েছে। সাধারণ পোশাক যেমন পায়জামা-পাঞ্জাবি, শার্ট-প্যান্ট, শাড়ি-ব্লাউজ ও সালোয়ার-কামিজ ছাড়াও চাকমারা পিনোন ও হাদি, মারমারা দেয়াহ, সাঁওতালরা পাঞ্চি ও গারোরা দকমান্দা পরে থাকে।

প্রাথমিক শিক্ষায় বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই প্রশ্নোত্তরগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন শিক্ষকরা।