রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট ও উন্নয়ন প্রকল্পের ধীরগতি এখনো কাটেনি। প্রতিষ্ঠার প্রায় দুই দশক পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৬টি অনুষদ ও ২২টি বিভাগে প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। আবাসিক হলে মোট ৮২৪টি আসন থাকায় মাত্র ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী হল বরাদ্দ পায়। বাকি ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের বাইরে মেস ও ভাড়া বাসায় থাকতে বাধ্য। অতিরিক্ত ভাড়া ও অনিরাপদ পরিবেশের মধ্যে তাদের শিক্ষাজীবন চালাতে হয়। নারী শিক্ষার্থী ও নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীরা এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। ছাত্রীদের জন্য একমাত্র শহীদ ফেলানী হল চালু রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণাধীন বেগম খালেদা জিয়া ছাত্রী হলের কাজ আবার শুরু হলেও এখনো সম্পন্ন হয়নি।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প দীর্ঘসূত্রিতায় ভুগছে। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ভাস্কর্য ‘স্বাধীনতা স্মারক’-এর নির্মাণকাজ ২০১২ সালে শুরু হলেও আজও অসমাপ্ত। ২০১৯ সালে দুর্নীতির অভিযোগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্রকল্পটির কাজ বন্ধ হয়ে যায়; পরে তা আর চালু হয়নি। রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও ১০ তলা ছাত্রী হলের নির্মাণ আবার শুরু হলেও অগ্রগতি খুবই ধীর।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি ধরে রাখতে ‘আবু সাঈদ তোরণ ও মিউজিয়াম’ এবং ‘শহীদ আবু সাঈদ স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ১২ তলা একাডেমিক ভবন, তিনটি ১০ তলা ছাত্র হল, দুটি ১০ তলা ছাত্রী হল, সমন্বিত অ্যাক্টিভিটি সেন্টার, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আবাসন ও লাইব্রেরি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি এখনো একনেকের চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদে এটি বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও শিক্ষার্থীরা এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দিহান।

গবেষণা খাতেও সমস্যা রয়ে গেছে। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে থিসিসকারী শিক্ষার্থীদের ২৫ হাজার টাকা করে গবেষণা স্কলারশিপ দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে গবেষণা ব্যয় বিবেচনায় এই অর্থ অপ্রতুল। গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে আধুনিক গবেষণাগার, যন্ত্রপাতি ও পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি রয়েছে।

সরকার পরিবর্তনের পর বিশ্ববিদ্যালয়টির উন্নয়ন নিয়ে আশা বাড়লেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যায়নি। শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি জরুরি। কাগজে-কলমের উন্নয়ন নয়, বাস্তব সমাধানই এখন বেরোবির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।