ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় একটি বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার একটি ভিডিওচিত্র সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুরো বিষয়টি আলোচনায় আসে এবং ভুক্তভোগীর পরিবার আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ পায়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত তিনজন কিশোর বয়সী। মামলা দায়েরের পরপরই তাদের আটক করা সম্ভব হয়।
মামলার বরাত দিয়ে পুলিশ ও বাদীপক্ষ জানিয়েছে, ধর্ষণের এই ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছিল গত ২৬ জুলাই। কিন্তু জড়িত ব্যক্তিরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারণে শিশুটি দীর্ঘদিন ঘটনাটি গোপন রাখতে বাধ্য হয়। গতকাল মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) যখন অভিযুক্তরা নিজেদের ধারণ করা ভিডিও ক্লিপটি ইন্টারনেটে প্রকাশ করে, তখনই পরিবার বিষয়টি জানতে পারে। ঘটনার আকস্মিকতার দিকে ইঙ্গিত করে বাদী অর্থাৎ নির্যাতনের শিকার শিশুর ভাই জানান, 'আমার বোন আমাদের ভয়ের কারণেই কিছু বলেনি। অভিযুক্তরাই পরবর্তীতে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেয়। এটি ইন্টারনেটে না আসা পর্যন্ত পরিবারের কেউ এ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিল না, যার ফলশ্রুতিতে আইনগত পদক্ষেপ নিতেও দেরি হয়েছে।'
ঘটনাটি জানতে পারার পর ওই দিন রাতেই ভোলার বোরহানউদ্দিন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা রুজু করেন ভুক্তভোগীর ভাই। মামলার পরবর্তী সময়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তিন কিশোর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের আজ বুধবার দুপুরে ভোলার একটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক তাদের কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত পুলিশের পরিদর্শক শেখ মো. নাসির উদ্দিন তথ্যটি নিশ্চিত করে জানান, আপাতত আসামিদের ভোলা জেলা কারাগারে রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে পুলিশ তাদের যশোরের কিশোর সংশোধনাগারে প্রেরণ করবে।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি, ভোলা সদর হাসপাতালে নির্যাতিতার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন ও তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় জড়িত বাকি অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশের অভিযান নিরবচ্ছিন্নভাবে চলমান রয়েছে।



