আগামীকাল যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ ফাইনাল। লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার এই ম্যাচকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কা-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমেরিক লাপোর্ত প্রশ্ন তুলেছেন প্রতিযোগিতায় রেফারিদের ভূমিকা নিয়ে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে রেফারিং নিয়ে কিছু ঘটনা তাদের বিস্মিত করেছে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাউলের বিষয়ে কোনো শাস্তি না দেওয়ার ঘটনা উল্লেখ করেন তিনি। লাপোর্তের অভিমত, আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে এবং এ ধরনের আক্রমণাত্মক খেলা এত বড় প্রতিযোগিতায় অনুমোদন করা উচিত নয়, কারণ এতে প্রতিপক্ষের মনোযোগ নষ্ট হয় এবং হতাশা তৈরি হয়।

নিজেদের ফুটবল দর্শনের তুলনা করে লাপোর্ত বলেন, স্পেন নিখুঁত পাসিং ও বল নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিচিত, যেখানে আর্জেন্টিনার খেলা পেশিশক্তি ও আগ্রাসনের মিশেল। তবে মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে তার মূল ভয় রেফারিং নিয়ে। তিনি সতর্ক করে বলেন, আক্রমণাত্মক খেলাকে তিনি ভয় পান না, তবে রেফারি নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে এবং নিয়ম প্রয়োগ করলে স্পেনের কোনো সমস্যা নেই।

পরিসংখ্যানের দিক থেকেও লাপোর্তের বক্তব্য সমর্থনযোগ্য। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ৭৯টি ফাউল করেছে, যেখানে তাদের হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছে মাত্র ৯টি। অন্যদিকে স্পেন ৬৬টি ফাউল করলেও হলুদ কার্ড পেয়েছে ৬টি। এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দেয় যে আর্জেন্টিনার ফাউলগুলো হয়তো যথাযথ শাস্তির আওতায় আসেনি, যা রেফারিংয়ে পক্ষপাতিত্বের প্রশ্ন তুলেছে।

লাপোর্ত নিজেদের দলের সুশৃঙ্খল ফুটবলের প্রশংসা করে বলেন, টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই তারা শৃঙ্খলাপূর্ণ খেলছে, প্রতিপক্ষকে আঘাত বা বিপজ্জনক ফাউল না করার চেষ্টা করছে। ফাইনালেও একই মানসিকতা বজায় রাখার ইচ্ছে প্রকাশ করে তিনি উল্লেখ করেন, তবে অনেক কিছুই নির্ভর করবে রেফারিংয়ের ওপর। স্পেনের প্রাক্তন কোচ ভিসেন্তে দেল বস্কের মন্তব্যের পর এবার সক্রিয় ডিফেন্ডারের সরাসরি বক্তব্য ফাইনালের উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।