বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রাক্কালে নিজের চোট ও মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে মুখ খুললেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ডান হাতের আঙুলের ব্যথা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। এই চোট নিয়েই তিনি পুরো বিশ্বকাপ আসরটি পার করেছেন। তাঁর ভাষ্যে, প্রতিদিন অনুশীলনের সময় হাতে ব্যথা লাগে। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলেও তিনি সেটি প্রত্যাখ্যান করেন, কারণ তা করলে বিশ্বকাপ খেলা সম্ভব হতো না।

মার্তিনেজ জানান, বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইউরোপা লিগের ফাইনালে অনুশীলনের সময় তিনি ডান হাতের আঙুলে চোট পান। সেই চোট নিয়েই তিনি ওই ফাইনালে গোলশূন্য রাখেন ও শিরোপা জেতেন। এরপর বিশ্বকাপকে সামনে রেখে অস্ত্রোপচার না করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। চোটের কারণে প্রস্তুতি পর্বও বিঘ্নিত হয়। গ্রুপ পর্বে তিনি বেশিরভাগ সময় একা অনুশীলন করেছেন এবং বিশ্রাম নিয়েছেন। নকআউট পর্বে এসে তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এখন তিনি দলের সঙ্গে পূর্ণ অনুশীলনে ফিরতে পেরেছেন এবং আঙুলের ব্যথাও কমেছে।

চোটের প্রভাব তাঁর ফর্মেও পড়েছে। এ বিশ্বকাপে সাত ম্যাচে মাত্র দুটি ক্লিন শিট রাখতে পেরেছেন তিনি। তবে ফাইনালে নিজের সেরাটা দিতে তিনি বদ্ধপরিকর। মার্তিনেজের ক্যারিয়ার একসময় বদলে গিয়েছিল আর্সেনালের গোলরক্ষক লেনোর চোটের কারণে। সেই চোটের সুযোগে মাঠে নেমে তিনি চমকপ্রদ পারফরম্যান্স দেখান এবং নিজের জায়গা পাকাঁ করেন। কিন্তু এখন আর তিনি ব্যক্তিগত সাফল্যের পেছনে ছুটতে চান না। তাঁর মতে, সতীর্থ ও কোচের আস্থার পাত্র হতে পারাই সবচেয়ে বড় অর্জন।

তিনি আরও বলেন, ‘পত্রিকার প্রথম পাতায় নাম আসার চেয়ে ১০টি পেনাল্টি সেভ দেওয়া আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি সেরা খেলোয়াড় হলাম কি না, তা আমার কাছে বিবেচ্য নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কোচ ও সতীর্থরা আমাকে বিশ্বাস করে। কোচ যখন মনে করে দলে আমার উপস্থিতি জরুরি, সেটাই বড় গর্বের।’ ফাইনালে তিনি নিজের চেয়ে সতীর্থদের আলোচিত হতে বেশি পছন্দ করবেন। তাঁর বক্তব্য, ‘যদি পুরো ম্যাচে আমার কিছুই করার না থাকে, তবুও আমি একইভাবে খুশি হব। চার বছরে এ ব্যাপারে কোনো পরিবর্তন হয়নি। শিরোপা ও স্বর্ণপদকের মূল্যও একই। আমি সতীর্থদের লাইমলাইট পেতে চাই। গোলরক্ষকেরা সব সময় আলাদা থাকেন। আমি আর গল্পের মূল চরিত্র হতে চাই না, তবে দলের প্রয়োজনে আমি আছি।’

মার্তিনেজ মনে করেন, আর্জেন্টিনার শিরোপা জেতার অভ্যাস আছে এবং এবারও তারা সেটা ধরে রাখতে চায়। তাঁর ভাষ্যে, ব্যাক সিটে বসে উদযাপন করলেও তার আনন্দ একই থাকবে।