বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে শিরোপা জয়ের পর চ্যাম্পিয়ন দলকে আসল ট্রফি না দিয়ে একটি বিশেষ রেপ্লিকা প্রদানের রীতি চালু হয়েছে। ফিফার বর্তমান বিধি অনুযায়ী, ফাইনাল শেষে বিজয়ী দলকে মাঠে আসল ট্রফি তুলে দেওয়া হলেও তা শুধু উদযাপনের জন্য; পরে ফিফা তা ফিরিয়ে নেয়। স্থায়ীভাবে চ্যাম্পিয়নদের কাছে থাকে ‘ফিফা বিশ্বকাপ উইনার্স ট্রফি’ নামের একটি স্বর্ণ-প্রলিপ্ত ব্রোঞ্জের অনুকৃতি। এই ট্রফি চ্যাম্পিয়নরা পাকাপাকিভাবে নিজেদের কাছে রাখতে পারেন।
এবার বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির দল ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। আগামী ১৯ জুলাই রাত একটায় নিউইয়র্কের মেট লাইফ স্টেডিয়ামে তাদের প্রতিপক্ষ ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জেতা স্পেন। আর্জেন্টিনা ফাইনাল জিতলে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা ঘরে তুললেও আসল ট্রফি তাদের কাছে থাকবে না।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে যে কোনো দল টানা দুইবার শিরোপা জিততে পেরেছে মাত্র একবার; সেটি হলো ব্রাজিল, ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালের আসরে। ব্রাজিল ১৯৯৪ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার ফাইনালে পৌঁছালেও টানা দ্বিতীয় শিরোপা জিততে পারেনি। আর্জেন্টিনা সে দিক থেকে ইতিহাস গড়তে পারে ব্রাজিলের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে। যদিও টানা দ্বিতীয় ফাইনালে ওঠার নজির কম নয়; ব্রাজিল ছাড়াও আরও অনেক দল টানা দুই ফাইনাল খেলেছে, কিন্তু শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি।
ট্রফি প্রদানের নিয়মে সময়ের সাথে পরিবর্তন এসেছে। আগে চার বছরের জন্য আসল বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ী দেশের কাছে থাকত। তবে চুরির ঝুঁকি এড়াতে এখন ট্রফিটি সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফার বিশেষ ভল্টে সংরক্ষিত থাকে। শুধু ফাইনালের দিন অথবা বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানে এটি বের করা হয়। ২০২২ সালে কাতারে বিশ্বকাপ জেতার পর আর্জেন্টিনা আসল ট্রফি হাতে উদযাপন করলেও পরে তারা একটি রেপ্লিকা নিয়ে দেশে ফিরেছিল। এবারও ফাইনাল জিতলে একই অবস্থা হবে।
এই উৎসব-আয়োজনের অংশ হিসেবে মেট লাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল অনুষ্ঠানের আগে বিভিন্ন শিল্পীর পরিবেশনাও থাকবে। তবে লাখো ফুটবলপ্রেমীর নজর থাকবে মাঠের লড়াই এবং শেষ হাসি কে হাসে সেই দিকে। ট্রফি নিয়ে জল্পনা-কল্পনার অবসান হবে ম্যাচের ফল ঘোষণার মাধ্যমে।

