আর্থিক নানা সংকটে জর্জরিত ন্যাশনাল ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আদিল চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন। চলতি সপ্তাহের গোড়ার দিকে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বরাবর তিনি তার পদত্যাগপত্র পেশ করেন। ব্যক্তিগত কারণকে অবলম্বন করে ইস্তফা দেওয়ার পর আদিল চৌধুরী এখন আর নিয়মিতভাবে ব্যাংকে আসছেন না। ন্যাশনাল ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

২০২৫ সালের ৭ জুলাই তিন বছর মেয়াদের জন্য আদিল চৌধুরী ন্যাশনাল ব্যাংকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন। ন্যাশনাল ব্যাংকে যোগদানের পূর্বে তিনি ব্যাংক এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। উল্লেখযোগ্য যে, তার পূর্বসূরি মো. তৌহিদুল আলম খানও তার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই পদত্যাগের পথ বেছে নিয়েছিলেন।

আদিল চৌধুরী এমন এক সময়ে বিদায় নিলেন যখন ন্যাশনাল ব্যাংক চরম আর্থিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকটি বর্তমানে উচ্চ খেলাপি ঋণ, বিরামহীন লোকসান এবং আমানতকারীদের অর্থ তোলার প্রবণতার মুখোমুখি। গত ২০২২ সাল থেকে একটানা লোকসান করে আসছে এই ব্যাংক। বিভিন্ন আর্থিক ত্রুটি-বিচ্যুতি ও বাড়তে থাকা খেলাপি ঋণের অভিঘাতে তাদের সংগৃহীত লোকসান প্রায় ৮ হাজার ৯০০ কোটি টাকা ছুঁয়ে ফেলেছে।

এদিকে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংককে রাজধানীর পান্থপথ এলাকায় নির্মানাধীন ‘টুইন টাওয়ার’ ভবনটি ইজারা নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের শাসনামলে সিকদার গ্রুপ সুদীর্ঘ সময় ধরে ন্যাশনাল ব্যাংকের পর্ষদের ওপর কর্তৃত্ব বজায় রেখেছিল। কিন্তু ২০২৪ সালে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপের পর সিকদার গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ হারায়। বর্তমানে মাল্টিমোড গ্রুপ, হোসাফ গ্রুপ এবং আর্মানা গ্রুপের পরিবারগুলোর সদস্যরা ব্যাংকের পরিচালনা ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছেন।