কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার দিবাগত রাতের প্রথম প্রহরে বালুখালী, কুতুপালং ও জামশিয়া শিবিরের চারটি ভিন্ন স্থানে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে মাটি ধসে পড়ে। এতে নারী ও শিশুসহ মোট আটজনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা। তিনি জানান, ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় আরও পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, কারণ শিবিরগুলোর অনেক বাসিন্দা পাহাড়ের ঢালুতে অস্থায়ী বসতি স্থাপন করেছেন।
স্থানীয় রোহিঙ্গা নেতা আকতার কামাল জানান, জামতলী আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-১৫) ডি-৬ ব্লকে রাত দেড়টার দিকে পাহাড় খণ্ড ধসে রোহিঙ্গা কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর চাপা পড়ে। এ সময় ঘুমন্ত অবস্থায় কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) ও তাদের চার বছরের পুত্র মোহাম্মদ আনাসের মৃত্যু হয়। ফায়ার সার্ভিস ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীরা মাটি সরিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন। একই পরিবারের আরও দুই সদস্য আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
কুতুপালং শিবিরের (ক্যাম্প-৭) ডি-৭ ব্লকে রাত দুইটার দিকে পাহাড়ধসে সাত বছরের শিশু মো. একরাম নিহত হয়। সে ওই শিবিরের বাসিন্দা রশিদ উল্লাহর পুত্র। অন্যদিকে, রাত সাড়ে তিনটার দিকে বালুখালী শিবিরের (ক্যাম্প-১১) সি-১১ ব্লকে পৃথক পাহাড়ধসে একটি পরিবারের চার সদস্য প্রাণ হারান। নিহতরা হলেন উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩) এবং দুই ভাই হারুনুর রশিদ (৩) ও মোহাম্মদ রিহান (৫)। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে সবগুলো মরদেহ উদ্ধার করে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান জানান, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী দুই দিন অতি ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে উখিয়া ও টেকনাফের প্রায় আট হাজার একর বনভূমি উজাড় করে ৩৪টি রোহিঙ্গা শিবির গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে ৩৩টি শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ১৪ লাখ, যাদের মধ্যে অন্তত ৮০ হাজার ভূমিধসের ঝুঁকিতে বসবাস করছেন। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ধসে রোহিঙ্গাদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে চলেছে।




