পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে আবদুর রহিম মাঝি নামের এক জেলের জালে প্রায় ৮ কেজি ওজনের একটি বিরল সামুদ্রিক প্রজাতি ধরা পড়েছে। স্থানীয়ভাবে ‘লম্বু পোয়া’ নামে পরিচিত এই মাছটি ‘কালো পোয়া’ নামেও সমধিক পরিচিত। গতকাল রোববার দুপুরে আলীপুর মৎস্যবন্দরে নিলাম ডেকে মাছটি ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। এই মাছটি বঙ্গোপসাগরের অত্যন্ত দুর্লভ ও মূল্যবান বলে বিবেচিত হয়। একে ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ বা ‘দাতিনা’ নামেও অভিহিত করা হয়। মাছটির পেটের ভেতরের বিশেষ থলি (এয়ার ব্লাডার) থেকে অত্যন্ত মূল্যবান ওষুধ তৈরি হয়, যার কারণে এর বাজারমূল্য অনেক বেশি।
জেলে আবদুর রহিম মাঝি জানান, গত শনিবার সকালে তিনি আলীপুর মৎস্যবন্দর থেকে সাগরে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে রওনা হন। দুপুরের দিকে তিনি জাল ফেলেন এবং রাতে জাল টেনে তোলার সময় অন্যান্য মাছের সঙ্গেই তাঁর জালে ধরা পড়ে এই মূল্যবান কালো পোয়া মাছটি। পরের দিন দুপুরে মাছটি বিক্রির জন্য আলীপুর মৎস্যবন্দরে আনা হয়। সেখানে নিলামের মাধ্যমে কুয়াকাটা ফ্রেশ ফিশের মালিক পি এম মূসা ৫০ হাজার টাকায় মাছটি ক্রয় করেন।
পি এম মূসা বলেন, তিনি বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ সংগ্রহ করে ঢাকাসহ দেশের বাইরেও রপ্তানি করেন। কালো পোয়ার সুইম ব্লাডার অত্যন্ত মূল্যবান হওয়ায় এই মাছের বাজারদর অনেক বেশি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কলাপাড়া উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, স্থানীয়ভাবে মাছটি কালো পোয়া বা লম্বু পোয়া নামে পরিচিত। এর ওজন সাধারণত ৪ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। মূল্যবান হওয়ায় অনেকে একে ‘সাগরের কালো সোনা’ বলে থাকেন। সম্প্রতি ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেদের জালে এমন মূল্যবান মাছ ধরা পড়ায় এটি নিঃসন্দেহে একটি সুখবর বলে মন্তব্য করেন তিনি।




