বাংলাদেশ সরকার বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ৩৩ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন ১৪ জন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), ১৮ জন অতিরিক্ত ডিআইজি এবং একজন পুলিশ সুপার। ডিআইজি পদে বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্তরা হলেন— মোল্যা নজরুল ইসলাম (বর্তমানে গ্রেপ্তার), মো. সাইফুল ইসলাম (বর্তমানে গ্রেপ্তার), মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ, শাহ মিজান শাফিয়ার রহমান, এস এম মোস্তাক আহমেদ খান, জিহাদুল কবির, মঈনুল হক, মো. ইলিয়াছ শরীফ, শ্যামল কুমার নাথ, মো. জাকির হোসেন খান, মো. শাহ আবিদ হোসেন, মো. জামিল হাসান, মো. মাহবুবুর রহমান ও মো. মনিরুজ্জামান। অতিরিক্ত ডিআইজি পদে রয়েছেন— মো. বরকতুল্লাহ খান, এ টি এম মোজাহিদুল ইসলাম, মো. আনোয়ার হোসেন খান, মোহা. মনিরুজ্জামান, মো. মেহেদুল করিম, মো. আলমগীর কবীর, মো. রশীদুল হাসান, সঞ্জয় কুমার কুণ্ডু, মো. নিজামুল হক মোল্যা, এস এম এমরান হোসেন, মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান, ড. শামসুন্নাহার, মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন, সাইফুল্লাহ আল মামুন, খান মুহাম্মদ রেজোয়ান, মো. সাজিদ হোসেন, শেখ রফিকুল ইসলাম ও মাশরুকুর রহমান খালেদ। পুলিশ সুপার পদ থেকে অবসরপ্রাপ্ত হয়েছেন আবদুল্লাহ আরেফ।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই কর্মকর্তাদের পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে সংযুক্ত করা হয়েছিল। বর্তমানে তাঁদের মধ্যে দুজন গ্রেপ্তার আছেন এবং অনেকেই পলাতক। পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এসব কর্মকর্তা পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত সব সুবিধা পাবেন।

এর আগেও অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে। সর্বশেষ এই সিদ্ধান্তটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল হিসেবে দেখা হচ্ছে।