কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মাসুদের পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার সকাল দশটার দিকে ফতেহাবাদ ইউপি কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। পরিষদের সচিব আবু হানিফকে মারধর ও কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। রাতে থানায় এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন ওই সচিব।

কামরুজ্জামান মাসুদ ফতেহাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের (যার কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক। গত বছরের পাঁচ আগস্টের পর তিনি দুধ দিয়ে গোসল করে দল ছাড়ার ঘোষণা দেন। জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় রুবেল হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়। পুলিশ, লিখিত অভিযোগ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশে গতকাল তাঁর দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার কথা ছিল। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ইউপি কার্যালয়ের সামনে জনতা জড়ো হতে শুরু করে।

এক পর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে একদল লোক ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা তথা ইউপি সচিব আবু হানিফের কক্ষে প্রবেশ করে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। পাশাপাশি অফিসের চেয়ার-টেবিলসহ অন্যান্য আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে দেবীদ্বার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত সচিবকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য থেকে জানা যায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে কামরুজ্জামান মাসুদ একাধিক মামলার আসামি হয়ে দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। সেই সময় তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিন মাসের ছুটি নেন এবং ইউপি সদস্য মো. সালাউদ্দিন রুহুলকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেন। উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর নিম্ন আদালতে হাজির হলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। প্রায় এক মাস আগে আবার উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন। এরপর বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আবেদন করলে তাকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হয়। গতকালই তার দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার কথা ছিল।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন রুহুল জানান, প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। কিন্তু দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় ইউপি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে বিএনপি, এনসিপি, জামায়াত ও গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন দলের সমর্থকেরা সচিবের কক্ষে প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন। এ বিষয়ে জানতে ইউপি সচিব আবু হানিফ রানা ও ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মাসুদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। ইউপি সচিবের ওপর হামলার ঘটনায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে থানায় এজাহার দেওয়া হয়েছে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্রও পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই পুলিশ মোতায়েন ছিল। হামলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত ইউপি সচিবকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।