নোয়াখালী বিশেষ জজ আদালত রূপালী ব্যাংকের সাবেক এক কর্মকর্তাকে ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অপরাধে দীর্ঘ কারাদণ্ড দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে বিচারক মো. শওকত আলী এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিত ব্যক্তি হলেন আবদুল মজিদ, যিনি রূপালী ব্যাংকের লক্ষ্মীপুরের রামগতি বাজার শাখায় ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার সদর থানাধীন কাফিলাতলি এলাকায়।

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, আবদুল মজিদকে ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। পাশাপাশি তাঁকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও ১৮ মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ রয়েছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রের অনুকূলে তাঁর নামে থাকা ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিন। তিনি জানান, রায় ঘোষণার সময় আবদুল মজিদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এ মামলায় মো. আবদুল ওয়ারেশ ও আবুল কালাম নামের অন্য দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে রামগতি বাজার শাখার ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করেন আবদুল মজিদ। এই সময়ে গ্রাহকদের জমা রাখা সঞ্চয় ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশনের ১৬ লাখ ৩০ হাজার ২৩১ টাকাসহ মোট ১ কোটি ২৪ লাখ ১৫ হাজার ৫৪৩ টাকা তিনি আত্মসাৎ করেন।

ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর ২০১৩ সালের ৮ জুন লক্ষ্মীপুরের রামগতি থানায় মামলা করে দুদক। তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত এই রায় দেন। রায়ে দণ্ডবিধির দুটি পৃথক ধারা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের অধীনে সাজা ও জরিমানা ধার্য করা হয়েছে।