রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় স্ত্রী শাকির খাতুন সোমাকে হত্যার ঘটনায় তার স্বামী মনির হোসেনকে ফাঁসির সাজা দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. সাদেকীন হাবীব এই রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে আজকের এই রায় আসামির বিরুদ্ধে এসেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০০৩ সালে মনির ও সোমার বিয়ের মাধ্যমে। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করে সোমার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন মনির ও তার পরিবারের সদস্যরা। বিভিন্ন সময়ে সোমার পরিবার মনিরকে ১১ লাখ টাকা দেয়। এরপরও নির্যাতন থামেনি। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক পর্যায়ে সোমাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে পরবর্তী সময়ে নির্যাতন বন্ধের আশ্বাসে তাকে আবার বাসায় নিয়ে আসা হয়। কিন্তু নির্যাতন অব্যাহত থাকে।
একই বছরের ৬ অক্টোবর দুপুরে টাকা নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার সময় মনির ছুরি দিয়ে সোমার গলায় আঘাত করে। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই দিনই সোমার মা আক্তার বানু বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ মনিরকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন তিনি।
তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর বাড্ডা থানা-পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। ২০১৮ সালের ১৭ মে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। বিচার প্রক্রিয়ায় ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জন সাক্ষ্য দেন। দীর্ঘদিন জামিনে থাকা মনিরের জামিন ১৪ জুলাই বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। আজ রায় ঘোষণার আগে তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয় এবং রায়ের পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।




