‘কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’— এই গানের প্রথম দুই লাইন মুখে না ফেরেন এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার কলকাতার কলেজ স্ট্রিটের কফি হাউসের আড্ডাকে ভিত্তি করে এই গানটি রচনা করেছিলেন। তবে এই গান লেখার পেছনে রয়েছে একটি মজার ঘটনা। গৌরীপ্রসন্ন ও সুরকার নচিকেতা ঘোষ ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাঁদের বন্ধুত্ব ছিল কলেজজীবন থেকে শুরু করে সারাজীবনব্যাপী। নচিকেতার পরিবারের সঙ্গেও গৌরীপ্রসন্নের ছিল স্নেহের সম্পর্ক। নচিকেতার পুত্র সুপর্ণকান্তি ঘোষ বাবার পথে সুর সাধনা শুরু করেছিলেন। একদিন গৌরীপ্রসন্ন যখন নচিকেতার বাড়িতে ছিলেন, তখন সুপর্ণকান্তি দেরি করে বাড়ি ফেরায় প্রশ্নের মুখে পড়েন। গৌরীপ্রসন্ন জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘বাইরে আড্ডা মেরে সময় কাটাচ্ছ?’ কথার টানাপোড়েনে সুপর্ণকান্তি কফি হাউসের আড্ডা নিয়ে গান লেখার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন গৌরীপ্রসন্নকে। তিনি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে সঙ্গে সঙ্গেই প্রথম দুই লাইন লিখে ফেলেন। তবে পুরো গানটি সম্পূর্ণ করতে সময় নিয়েছিলেন তিনি। এই গানটি বিবিসির শ্রোতা জরিপে শ্রেষ্ঠ বাংলা গানের খেতাব অর্জন করে। অঞ্জন দত্ত গানটি গেয়েছেন, যিনি সম্প্রতি ঢাকা অ্যারেনায় পরিবেশনাও করেছেন।

অঞ্জন দত্তের ‘বেলা’ গানটির কথাও কম আলোচিত নয়। ‘এটা কি ২৪৪-১১-৩৯’— এই ফোন নম্বর নিয়ে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক কৌতূহল। অনেকে ভেবেছিলেন এটি অঞ্জনের নিজের জীবনের গল্প। কিন্তু হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, এটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। তিনি বলেন, ‘দুটি মানুষের প্রেমের কথা ভেবেই এই গান তৈরি করেছিলাম।’ তবে গানের ফোন নম্বরটি ছিল একটি সংবাদপত্রের অফিসের আসল নম্বর। প্রচুর ফোন আসতে শুরু করলে পত্রিকার সম্পাদক বিপাকে পড়েন। লোকেরা ফোন করে ‘বেলাকে একটিবার ডেকে দিতে’ বলতেন। শেষ পর্যন্ত আদালতের সাহায্য নিতে বাধ্য হন তাঁরা। অঞ্জনের বাবাও ক্ষুব্ধ হয়ে বলেছিলেন, পাবলিক নুইসেন্স অ্যাক্টে ছেলের শাস্তি হওয়া উচিত। পরে অঞ্জন ক্ষমা চাইলেও ফোন নম্বরটি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হয়।