বৈশ্বিক ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে চলমান দুর্বলতার মধ্যে বড় একটি পদক্ষেপ নিল সায়লারের প্রতিষ্ঠান স্ট্র্যাটেজি। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি ১০ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা) মূল্যের বিটকোইন বিক্রি করেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিক্রির পেছনে সম্ভবত তারল্য সংকট বা পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যাসের মতো কারণ কাজ করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান পোর্টফোলিওতে মোট ৮ লাখ ৩ হাজারের বেশি বিটকোইন রয়েছে। তবে এই মুদ্রাগুলো গড়ে বর্তমান বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে কেনা হয়েছে। অর্থাৎ, স্ট্র্যাটেজি যদি এখনই সব বিটকোইন বিক্রি করে, তাহলে তাদের বিপুল পরিমাণ লোকসান হতে পারে। বর্তমানে বিটকোইনের দাম প্রায় ৫১ হাজার ৫০০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে, যা প্রতিষ্ঠানটির গড় ক্রয়মূল্যের চেয়ে প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সায়লারের প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে বিটকোইন-কেন্দ্রিক কৌশল অনুসরণ করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ক্রিপ্টো বাজারে মন্দা দেখা দেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কঠোর মনোভাব এবং সুদের হার বৃদ্ধির মতো ম্যাক্রো-অর্থনৈতিক চাপের কারণে বিটকোইনের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এই পরিস্থিতিতে স্ট্র্যাটেজির সাম্প্রতিক বিটকোইন বিক্রি বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এখনো এই বিক্রির কারণ বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্ট্র্যাটেজি হয়তো স্বল্পমেয়াদি তারল্য চাহিদা মেটাতে বা অন্যান্য বিনিয়োগে অর্থ স্থানান্তরের জন্যই এই বিক্রি করেছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে বিটকোইন ধরে রাখার নীতি থেকে সরে আসছে কি না, তা এখনই স্পষ্ট নয়।
সামগ্রিকভাবে, ক্রিপ্টো বাজারের বর্তমান অবস্থা এবং সায়লারের প্রতিষ্ঠানের এই সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। কেউ কেউ এটিকে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, এটি প্রতিষ্ঠানটির বিটকোইন-বিশ্বাসে ফাটল ধরার ইঙ্গিত হতে পারে।



