কিছুদিন ধরে ওপেনএআইয়ের চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির জবাবে অপ্রত্যাশিত ভাষার ব্যবহার নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজনেস ইনসাইডারের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত স্ক্রিনশটে দেখা যায়, খাবারের একটি রেসিপির উপকরণ জানতে চাওয়ার পর চ্যাটজিপিটি জবাবে ‘এফ’ শব্দটি ব্যবহার করেছে। শুধু তাই নয়, প্রতিবেদনটিতে আরও কয়েকজন গ্রাহকের অভিজ্ঞতার উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে গালাগালি ও অশালীন শব্দের প্রয়োগ স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে।
চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের পর বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। সম্প্রতি চ্যাটজিপিটিতে নতুন একটি মডেল সংযোজন করেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। এর আগে বহু ব্যবহারকারী অভিযোগ করতেন যে, চ্যাটবটের উত্তর অত্যধিক যান্ত্রিক ও রোবটসুলভ শোনায়। মানুষের সঙ্গে আরও স্বাভাবিক ও আবেগপূর্ণ কথোপকথনের লক্ষ্যে আচরণে পরিবর্তন আনার পর এবার ভাষার ধরন নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
ভাষার এই পরিবর্তন কেবল অপমানজনক শব্দ ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সাধারণ কথাবার্তাতেও এখন তরুণদের মধ্যে প্রচলিত বিভিন্ন স্ল্যাং ও কথ্য শব্দ ব্যবহার করছে চ্যাটজিপিটি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, একটি রেসিপির পরামর্শ দিতে গিয়ে চ্যাটবট ‘বিগ অ্যাস কোলাচেস’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছে, যা অনেকের কাছে অপ্রত্যাশিত মনে হয়েছে।
এই আচরণের পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ কী, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কিছু ব্যবহারকারী ধারণা করছেন, চ্যাটজিপিটির বিনামূল্যের সংস্করণে থাকা ডিফল্ট মোডের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে ওপেনএআইয়ের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না আসা পর্যন্ত এমন ধারণার কোনো নিশ্চিত ভিত্তি নেই। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি এখনো এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি, ফলে হঠাৎ কথাবার্তার স্বর ও ধরনে কেন এমন পরিবর্তন এসেছে, সে সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
চ্যাটজিপিটির উত্তরে গালাগালি, স্ল্যাং কিংবা ‘এফ’ শব্দের উপস্থিতি অনেক ব্যবহারকারী নেতিবাচকভাবে গ্রহণ করেননি। তবে সবার মতামত একই নয়। কিছু গ্রাহক চ্যাটবটের নতুন, আরও স্বাভাবিক ও আবেগপ্রবণ কথোপকথনের ধরনকে পছন্দ করছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। ফলে এই পরিবর্তন নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিভক্ত প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, এই সংক্রান্ত তথ্য ও স্ক্রিনশটের ভিত্তি হিসেবে নিউজ১৮ ডটকমের প্রতিবেদনকে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।




