বিরল প্রতিভার অধিকারী হিসেবে পরিচিত বো ওয়েবস্টার। পেস আর স্পিন—দুই ধরনের বোলিংয়ে দক্ষ এই অলরাউন্ডারকে অস্ট্রেলিয়া দলে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে দেখা হয়। তবে ডান হাতে দুই ধরনের বোলিং করলেও শেভিংয়ের ব্যাপারে যথেষ্ট অলস তিনি। ডারউইনে আজ সকালের সংবাদ সম্মেলনে তাঁর শ্মশ্রু নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মজার একটি উত্তর দেন তিনি। জানালেন, মা যে হেয়ারড্রেসার, সাধারণত তিনিই তাঁর চুল কাটেন; কিন্তু দীর্ঘদিন ঘর থেকে দূরে থাকায় সেই সুযোগ হয়নি, তাই দাড়ি বেড়ে গেছে।
ইংল্যান্ডের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা শেষ করে এখন বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ওয়েবস্টার। আগামী পরশু ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ওয়েবস্টার জানান, মাত্র আটটি টেস্টের ক্যারিয়ারে তিনি ভারত, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন। ফলে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সম্পর্কে তার তেমন ধারণা নেই। তবে বাংলাদেশি এক পেসারের নাম যে তাঁর কানে পৌঁছেছে, তা স্পষ্ট।
চোটের কারণে ডারউইন টেস্টে নেই নাহিদ রানা। এই পেসারের অনুপস্থিতিকে দলের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন ওয়েবস্টার। তিনি বলেন, গত জুনের ওয়ানডে সিরিজে নাহিদকে ১৪৫ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করতে দেখেছেন তিনি। এমন গতির বোলারকে আক্রমণে না পাওয়া দলের জন্য বড় ক্ষতি। আরও জানান, সেই সিরিজে খেলা কয়েকজন ক্রিকেটারের কাছ থেকে শুনেছেন, নাহিদ বেশ আক্রমণাত্মক মেজাজের এবং ব্যাটসম্যানদের ওপর দারুণ চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই তার মতো বোলারের অনুপস্থিতি কাজকে কঠিন করে তুলবে।
গত জুনে বাংলাদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ। সেই সিরিজে দুই ম্যাচে চার উইকেট নিয়েছিলেন নাহিদ রানা। ২৩ বছর পর দ্বিপক্ষীয় টেস্ট সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়া সফরে এসেছে বাংলাদেশ। তবে এই সফরে নেই নাহিদ। অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের অন্য পেসাররা হলেন তাসকিন আহমেদ, মুশফিক হাসান, ইবাদত হোসেন ও খালেদ আহমেদ।
ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে ২২ বছর পর টেস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান দলের খুব একটা ধারণা নেই বলে জানান ওয়েবস্টার। কন্ডিশন ও উইকেটে বাংলাদেশের বোলারদের পারফরম্যান্স নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তাও রয়েছে তাঁর মনে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ছয়টি টেস্ট খেলে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। বাকি পাঁচটিতেই হেরেছে দলটি। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সর্বশেষ সিরিজে দুই টেস্টেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ।




