পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায় ধর্ষণের অভিযোগে ভারতীয় ক্রিকেটার অভিষেক পোরেলকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। দিল্লি ক্যাপিটালস ও বাংলার হয়ে খেলা এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে মেডিক্যালের এক ছাত্রীর করা মামলায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ওই তরুণীর দাবি, বিয়ের আশ্বাসে তাঁকে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান অভিষেক। এর পাশাপাশি গোপন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে পরে সেগুলো দিয়ে তাঁকে ভয় দেখানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হুগলির মগরা থানায় মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী। মামলার তদন্তে গতি আনতে সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। আদালতের শুনানিতে পুলিশকে দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশ মেনেই আজ পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাঁকে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে চুঁচুড়া আদালতে মামলাটির আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

হাইকোর্টের নির্দেশে পোরেলের সব ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে মগরা থানা–পুলিশ। মূলত ব্যক্তিগত কোনো ছবি বা ভিডিও যেন প্রকাশ্যে না আসে, সেই জন্যই এই ব্যবস্থা। তদন্তের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে একটি পেনড্রাইভও বাজেয়াপ্ত করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগকারী তার প্রথম এজাহারে জানিয়েছেন, ক্রিকেটার তাঁকে বেআইনিভাবে আটকে রেখেছিলেন এবং খাবার না দিয়ে একা করে রাখা হয়েছিল। এর ফলে তিনি শারীরিকভাবে এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়েন যে হাঁটতেও পারছিলেন না। দুই পরিবারের মধ্যে বিয়ের কথাবার্তা প্রায় চূড়ান্ত হয়ে এসেছিল বলেও জানান তিনি। তবে অভিষেকের একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা জানতে পারার পর তাঁদের সম্পর্ক ভেঙে যায়।

উল্লেখ্য, বাংলার ক্রিকেটে অভিষেক পোরেল পরিচিত নাম। ২০২১-২২ মৌসুমে বাংলার হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় তাঁর। পরবর্তী সময়ে ভারত ‘এ’ দলেও সুযোগ পান। ২০২৩ সালে দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে যুক্ত হন। আইপিএলে দিল্লির জার্সিতে ৩৫ ম্যাচ খেলে ৭৬৯ রান করেছেন তিনি।