মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জগতে এক চমকপ্রদ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে ব্যক্তি নয়, বরং পুরো পরিবার একসঙ্গে পরামর্শের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দ্বারস্থ হচ্ছে। প্রযুক্তি-বিশ্লেষণী সূত্র 'এআই ইনসাইডার'-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই অভাবনীয় প্রবণতার কথা উঠে এসেছে। এই চর্চাকে কি সুপরামর্শ হিসেবে নেওয়া উচিত, নাকি এটি এক ধ্বংসাত্মক পথের দিশা, সেই কেন্দ্রীয় প্রশ্নই এখন আলোচনার মূল বিষয়।
প্রতিবেদনটিতে পুরো পরিবারের এআই ব্যবহারের নজির স্থান পেয়েছে। যেখানে আগে পারিবারিক সমস্যা বা মানসিক চাপের সমাধানে পেশাদার থেরাপিস্ট বা কাউন্সিলরের শরণাপন্ন হওয়ার রীতি ছিল, সেখানে এখন অনেক পরিবার সম্মিলিতভাবে বিভিন্ন এআই চ্যাটবট বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পরামর্শ নিচ্ছেন। এর সুবিধা ও ক্ষতিকর দিক উভয়ই বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এআইয়ের তাত্ক্ষণিক প্রাপ্যতা ও তুলনামূলক কম খরচকে বড় আকর্ষণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। অন্যদিকে, মানসিক জটিলতার গভীরে যেতে এআইয়ের সীমাবদ্ধতা ও ভুল ব্যাখ্যার বিপদকে গুরুতর উদ্বেগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, পারিবারিক সম্পর্কের সূক্ষ্ম ও আবেগপ্রবণ বিষয়গুলো বোঝা একটি যন্ত্রের পক্ষে পুরোপুরি সম্ভব নয়। ফলে সেখান থেকে পাওয়া পরামর্শ বাস্তবতার নিরিখে ভাসাভাসা বা পুরোপুরি ভুল হতে পারে, যা একটি পরিবারের মানসিক সুস্থতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পুরো ঘটনাটি প্রযুক্তিনির্ভরতা ও মানবিক সম্পর্কের ভবিষ্যত নিয়ে নতুন করে ভাবনার খোরাক জোগাচ্ছে।




