কলকাতার নিউটাউনে রোববার অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গের শিল্পক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনার কথা ঘোষণা করেছেন। ভারতের বৃহত্তম দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আমুলের একটি বড় দই উৎপাদন কেন্দ্রের ভিত্তি স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকারের নীতির প্রশংসা করেন। অমিত শাহ বলেন, বিজেপির নেতৃত্বাধীন দ্বৈত ইঞ্জিন সরকার পশ্চিমবঙ্গকে তার হারানো গৌরব, তথা সোনার বাংলায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। তিনি দাবি করেন, শিল্পক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী মন্দা কাটিয়ে এখন রাজ্যে বিনিয়োগের জোয়ার শুরু হয়েছে। শুধু আমুল নয়, আরও বহু প্রতিষ্ঠান এই রাজ্যে আসতে আগ্রহী বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পূর্ববর্তী সরকারগুলোর কঠোর সমালোচনা করে অমিত শাহ বলেন, বামফ্রন্টের ৩৪ বছর ও তৃণমূল কংগ্রেসের দেড় দশকের শাসনে বাংলার শিল্প কার্যত ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসকে দুর্নীতিগ্রস্ত আখ্যা দিয়ে বলেন, ব্রিটিশদের পর এই বাংলাকে সর্বনাশের পথে নিয়ে যায় তারা। যে বাংলা একসময় ভারতবর্ষকে পথ দেখাত, সেখানে এখন শিল্পের অভাব প্রকট। তবে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেওয়ায় পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে বলে দাবি করেন এই কেন্দ্রীয় নেতা। উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসকে শোচনীয় পরাজয় এনে প্রথমবারের মতো রাজ্যে সরকার গঠন করে বিজেপি। এর আগে দিল্লিতে এক যুগ ধরে ক্ষমতায় থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে এটি দলটির প্রথম শাসনকাল।

অমিত শাহ যে আমুল প্ল্যান্টটির ভিত্তি স্থাপন করেছেন, সেটি হাওড়া জেলার সাকরাইল এলাকায় ১৫ একর জমির ওপর নির্মিত হবে। এই কারখানায় দৈনিক ১০ লাখ লিটার দই উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই স্থাপনা থেকে আইসক্রিমসহ অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্যও উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, এলাকার গরুর খামারিরা তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবে বলেও প্রত্যাশা করা হচ্ছে। অমিত শাহের ভাষ্যমতে, এই বিনিয়োগ শুধু কর্মসংস্থানই সৃষ্টি করবে না, বরং স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি এই প্রকল্পকে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পোন্নয়নের পথে একটি মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেন।