ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলামের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৫ জুলাই দিল্লিতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই একান্ত সাক্ষাৎ হয়। তবে বাংলাদেশ কিংবা ভারতের কোনো পক্ষই আলোচনার বিষয়বস্তু আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। ভারতের কয়েকটি সংবাদমাত্র বৈঠকটির বিষয়টি নিশ্চিত করলেও কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা জানায়নি।
বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানদের পঞ্চম সম্মেলনে অংশ নিতে এর আগের দিন ভারত সফরে যান প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা শামসুল ইসলাম। ওই সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদ দমন, আন্তর্দেশীয় সংগঠিত অপরাধ, সাইবার নিরাপত্তা, মানব পাচার ও সামুদ্রিক নিরাপত্তাসহ গোয়েন্দা সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। সম্মেলনের আগে দোভাল থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। তবে বাংলাদেশের প্রতিনিধির সঙ্গে তাঁর বৈঠকটি ছিল একান্ত ও গোপনীয়।
কূটনৈতিক সূত্র ও বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকের কূটনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের পর এটি ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম উচ্চপর্যায়ের আলোচনা। এছাড়া সীমান্তে ‘পুশ ইন’ ইস্যু, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য এবং সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কিছু অস্বস্তির প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, সীমান্ত পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ে খোলামেলা মতবিনিময় হয়েছে।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের কোনো উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করলেন। এর আগে এপ্রিলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দিল্লি সফরের সময় দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন। তারও আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের সম্মেলনের আগে তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান দোভালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ফলে গত আট মাসে বাংলাদেশের তিনজন শীর্ষ প্রতিনিধি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাথে বৈঠক করলেন।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও নিরাপত্তা ও কৌশলগত যোগাযোগের চ্যানেল দুই দেশ সচল রাখতে আগ্রহী। ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকা ও দিল্লি সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছিল। এপ্রিলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দিল্লি সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও আলোচনা হয়। তবে সীমান্তে পুশ ইন ইস্যু, ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার বক্তব্য এবং কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বিষয়কে কেন্দ্র করে সম্পর্কে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়। সাম্প্রতিক চীন সফর, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে এই যোগাযোগের গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।




