রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে আয়োজিত বৃক্ষমেলায় বিদেশি নানা প্রজাতির ফলের গাছের সমাহার চোখে পড়েছে। সেখানে আমাজন অঞ্চলের হলুদ সফেদা, মেক্সিকো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মামি সফেদা, ব্ল্যাক সাপোটে, হোয়াইট সাপোটে, রাম্বুটান, চেরি, ককোনাট, বছরজুড়ে ফল দেওয়া আঙুর, ট্যাং ফল, আনারকলি ও ফুজি আপেলের মতো বিভিন্ন জাতের গাছ প্রদর্শন ও বিক্রি হচ্ছে। দামি এসব গাছের চারা ও ফলসহ পুরো গাছ কিনছেন নানা পেশার মানুষ।
ট্রপিক্যাল ফ্রুট পার্কের স্বত্বাধিকারী জুয়েল আহমেদের স্টলে হলুদ সফেদা গাছের চারা আকারভেদে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলের গাছসহ পুরো গাছটি কিনতে চাইলে ২০ হাজার টাকা গুনতে হবে। তাঁর সংগ্রহে থাকা মামি সফেদা শুধু প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়েছে। তবে খুব শিগগিরই তা বিক্রি শুরু করবেন বলে জানান তিনি। জুয়েল আহমেদের মতে, তাঁর স্টলে প্রায় ১ হাজার ৪০০ ধরনের ফলের গাছের চারা রয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটির উপযুক্ত গাছই বিক্রি করছেন। সঠিক নিয়মে রোপণ ও পরিচর্যা করলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব বলে মত তার।
খান নার্সারির পরিচালক সজীব আহমেদ জানান, রাশিয়ান বাইকুনুন জাতের বারোমাসি আঙুর গাছ বছরের সব সময় ফল দেয়। এই গাছ ফলসহ প্রদর্শনী করা হচ্ছে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে। এ ছাড়া দুই প্রজাতির রাম্বুটানগাছও রয়েছে তাঁর কাছে। ফলসহ বড় রাম্বুটানগাছের দাম ৬০ হাজার টাকা এবং ছোটটির দাম ৪০ হাজার টাকা। তবে দামাদামি করে কিছু কম দেওয়া যাবে। চীন থেকে আনা ফুজি আপেলগাছের মূল্য ৪০ হাজার টাকা। তিনি জানান, এই গাছ বছরে দুবার ফল দেবে, যদি নিয়মিত যত্ন নেওয়া হয়। তাঁর স্টলে ৭০ থেকে ৮০ জাতের ফল গাছ ও ১০০ প্রজাতির বেশি ফুল গাছ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মেলায় ক্রেতাদের মধ্যে দাম নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ দেখা গেছে। মিরপুরের বাসিন্দা নারগিস সুলতানা অ্যাভোকাডো, মালবেরি, রাম্বুটান ও লটকন গাছ কেনেন ৫ হাজার টাকায়। তিনি বলেন, দাম বেশি মনে হলেও গাছের মান ভালো। তাঁর ছাদ বাগানে ইতিমধ্যে ৬০ রকমের ফলের গাছ আছে। ঢাকা পলিটেকনিকের শিক্ষার্থী মাহাদুল হাসান বিএডিসির স্টল থেকে ৩০০ টাকায় একটি আমগাছ কেনেন। তাঁর ভাষ্য, বেসরকারি নার্সারিগুলোতে এ গাছের দাম বেশি চাওয়া হয়েছিল।
শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি ছিল মেলায়। বিক্রেতারা গাছ কেনার পাশাপাশি পরিচর্যার বিভিন্ন কৌশলও জানিয়েছেন ক্রেতাদের।



