ইরাক সরকার সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ হামলার জবাবে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আধুনিকীকরণের অঙ্গীকার করলেও, এই পরিকল্পনা আসলে নতুন কিছু নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা। বাগদাদের পক্ষ থেকে এই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, বাস্তবে তারা তাদের পূর্বপরিকল্পিত আকাশ প্রতিরক্ষা উন্নয়ন কার্যক্রমও পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি বলে জানা গেছে।

ইরানের সাথে বর্তমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার বহু আগেই ইরাক তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতার কারণে সেই পরিকল্পনা ধুলোয় মিশে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান প্রতিশ্রুতি কেবল একটি প্রতিক্রিয়ামূলক বক্তব্য মাত্র, যার বাস্তব রূপ দেওয়া ইরাকের পক্ষে কঠিন হবে।

দেশটির প্রতিরক্ষা বাজেটের সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাকে এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। আমেরিকান ও সৌদি বিমান হামলার পর ইরাকের সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে নতুন করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহ ও মোতায়েন করার পরিবর্তে বর্তমান অবকাঠামো মেরামত করাই তাদের জন্য বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে।

এছাড়া ইরাকের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ এবং আঞ্চলিক জোটের জটিল রাজনীতিও তাদের সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ইরানের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে সমন্বয়ের অভাব ইরাকের আকাশ প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়াকে আরও পিছিয়ে দিতে পারে।

তবে ইরাকি কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, তারা নতুন করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহের জন্য একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং অচিরেই এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, এসব প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হবে তা এখনই বলা সম্ভব নয়।