স্পেনের সেউতা ছিটমহলে সাম্প্রতিক অভিবাসী পারাপারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যভুক্ত কয়েকটি রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়াকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছে মাদ্রিদ প্রশাসন। স্পেনের পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়াগুলোকে ‘স্বার্থপর’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে, যা ইউরোপীয় সংহতির চেতনায় চিড় ধরার ইঙ্গিত বহন করে।

শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইতালি সরকার স্পেনের সঙ্গে কার্যকরী শেনগেন চুক্তি স্থগিত করেছে। শেনজেন এলাকা বলতে ইউরোপের যে অঞ্চলগুলোতে পাসপোর্টহীন অবাধ যাতায়াত প্রচলিত, সেসব দেশের সঙ্গে এই সমঝোতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ছিল ইতালি। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে রোম ও মাদ্রিদের মধ্যকার এই পাসপোর্ট-মুক্ত চলাচল ব্যবস্থা এখন স্থগিত অবস্থায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, ভূমধ্যসাগরীয় এই ঘটনাপ্রবাহে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনি কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, সেউতার দৃশ্যপট ছিল ‘শকিং’ বা অভাবনীয়। স্পেনের উত্তর আফ্রিকী উপকূলের এই ছিটমহলটিতে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী আসতে থাকায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। মেলোনির মন্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, রোম সরকার এই আকস্মিক প্রাবাহকে নিজেদের জাতীয় স্বার্থের জন্য একটি সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখছে এবং তার ফলেই এই কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

স্পেনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে, কিছু ইইউ সদস্য রাষ্ট্র কেবল নিজ দেশের সীমান্ত নিরাপত্তার কথা ভাবছে এবং একটি অভিন্ন ইউরোপীয় শরণার্থী নীতি তথা সম্মিলিত দায়িত্ব ভাগ করার চুক্তি থেকে তারা সরে দাঁড়াচ্ছে। অথচ, স্পেনের মতামত অনুসারে, অভিবাসী সংকট কোনো একটি একক রাষ্ট্রের সমস্যা নয়, বরং সমগ্র ইউরোপীয় অঞ্চলেরই ভাগাভাগি করে নেওয়ার বিষয়। মেলোনির নেতৃত্বাধীন ইতালির দৃষ্টিভঙ্গি ঠিক এর বিপরীতে দাঁড়িয়ে, যা ভূমিয়াসাগরীয় অনাকাঙ্খিত আগমনকে প্রথম সারিতেই থামাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

উল্লেখ্য, আফ্রিকা থেকে ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান রুট হিসাবে বিবেচিত সেউতা ও মেলিলার মতো স্পেনীয় ছিটমহলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসী আগমনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সর্বশেষ এই উত্তাল সময়ে শেনগেন পদ্ধতির স্থগিতাদেশ ইউরোপীয় সীমান্ত উন্মুক্ত রাখার নীতিতে নতুন করে আঁচড় কেটেছে। ইতালির এই পদক্ষেপ গোটা ব্লকের জন্য একটি নজির সৃষ্টি করতে পারে বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন। স্পেন ও ইতালির মধ্যে এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের ভবিষ্যৎ এখন ইউরোপীয় কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।