পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অনলাইনভিত্তিক ভ্রমণ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট এক্সপার্টের (এফইবিডি) ছয় কর্মীসহ মোট সাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে একটি মামলা রুজু করেছে। রোববার (১১ জুলাই) রাজধানীর মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে এই মামলা করা হয়। সোমবার (১৩ জুলাই) সিআইডির পক্ষ থেকে প্রচারমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন—ফ্লাইট এক্সপার্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম, প্রেসিডেন্ট এম এ রশিদ শাহ সম্রাট, পরিচালক আমির হামজা রশিদ শাহ নায়েম, এ কে এম শাহদাত হোসেন ও আবদুল গণি মেহেদী। আরও রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির অর্থ বিভাগের প্রধান মো. সাকীব হোসেন এবং সোমা ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেসের মালিক মোতাহের হোসেন। সিআইডির আর্থিক অপরাধ ইউনিটের তদন্তে সামনে আসা তথ্যের ভিত্তিতে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৬ সালে, যখন ফ্লাইট এক্সপার্ট অনলাইনে বিমান টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু করে। ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটি হোটেল বুকিং, হজ ও ওমরাহ প্যাকেজের মতো বিভিন্ন ভ্রমণসেবা চালু করে। ২০১৯ সালে এটি 'এফইবিডি' নামে একটি যৌথ মূলধনি কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হয়, তবে উভয় নামেই ব্যবসা ও ব্যাংকিং লেনদেন পরিচালনা করতে থাকে। ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা (বি২বি) ও ব্যবসা-থেকে-ভোক্তা (বি২সি)—এই দুই পদ্ধতিতে টিকিট বিক্রি করত প্রতিষ্ঠানটি।
অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সময়ে অস্বাভাবিক মূল্যছাড়ের প্রলোভন দেখিয়ে দেশের অসংখ্য সাব-এজেন্ট ও সাধারণ গ্রাহকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ করত। কিন্তু নির্ধারিত টিকিট সরবরাহ করেনি। এমনকি ২০২৫ সালের ১ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম দেশ ত্যাগ করে বিদেশে চলে যান। সিআইডির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এফইবিডির নামে পরিচালিত বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়া অর্থ ফ্লাইট এক্সপার্টের অন্যান্য ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেই অর্থ পরবর্তীকালে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাবে সরিয়ে নেওয়া, উত্তোলন ও মুদ্রা রূপান্তরের মাধ্যমে অপরাধলব্ধ সম্পদের উৎস ও প্রকৃতি গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ মিলেছে।
পরিচালক ও অর্থবিভাগের প্রধান দেশত্যাগের পরেও কোম্পানির ব্যাংক হিসাব থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর করেছেন বলেও জানিয়েছে সিআইডি। এই লেনদেনগুলোর মাধ্যমে প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, ফ্লাইট এক্সপার্ট আইএটিএ-অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করলেও গ্রাহকের কাছ থেকে পুরো মূল্য নেওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রেই টিকিট সরবরাহ করেনি। কিছু ক্ষেত্রে একই টিকিটের বিপরীতে একাধিক উৎস থেকে অর্থ গ্রহণের ঘটনাও ধরা পড়েছে।
সিআইডি নিজেই এই মামলার তদন্ত পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যক্রমও অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।




