যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও এর অবকাঠামো নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এই ক্ষোভ এতটাই চরম আকার ধারণ করেছে যে, সম্প্রতি উটাহ রাজ্যের দীর্ঘদিনের আইনপ্রণেতা ও সিনেট প্রেসিডেন্ট স্টুয়ার্ট অ্যাডামস তার আসন হারিয়েছেন। তার পতনের পেছনে ছিল একটি বড় ডেটা সেন্টার প্রকল্প অনুমোদনে তার ভূমিকা, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে পড়ে। ২০২৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটাররা তাকে বহিষ্কার করেন, যা এআই-বিরোধী মনোভাবের রাজনৈতিক প্রভাবের একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন।
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশগত ন্যায়বিচার ও নগর ভূমি ব্যবহার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক লরেন মুলেনবাখের মতে, সারা দেশে ডেটা সেন্টার প্রকল্পগুলো বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। মিশিগানেই গত দুই বছরে ৩০টির বেশি বড় ও ছোট ডেটা সেন্টার প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মধ্যে তার নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রকল্পও রয়েছে। রাজ্যের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে স্বাগত জানিয়ে ছবি তুললেও, সবাই এতে উৎসাহিত নন। স্থানীয় পানি কর্তৃপক্ষ ইপসিলান্টি কমিউনিটি ইউটিলিটিজ অথরিটি জানিয়েছে, তারা মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় ও লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির প্রস্তাবিত ডেটা সেন্টারে শীতলীকরণের জন্য পানি সরবরাহ করবে না। এর ফলে প্রকল্পটি অন্য স্থানে সরানো হয়েছে।
প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য ডেটা সেন্টার নির্মাণের চাপ অব্যাহত রয়েছে। কর্পোরেট লাভ ও শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থে তারা ক্রমাগত নতুন জমি ও সুবিধা চাচ্ছে। মিশিগান আইনসভা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে ট্যাক্স ছাড় দিয়ে উৎসাহিত করলেও, সাধারণ মানুষ শব্দদূষণ, জমি ও পানির ব্যবহার এবং পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন। পাওয়ার কোম্পানিগুলো নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও লাইন নির্মাণের মাধ্যমে মুনাফা করতে আগ্রহী, কারণ ডেটা সেন্টারগুলো বিপুল বিদ্যুৎ চাহিদা সৃষ্টি করে। উদাহরণস্বরূপ, গুগলের প্রস্তাবিত একটি ডেটা সেন্টারের জন্য ২.৭ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হবে, যা প্রায় ২০ লাখ বাড়ির চাহিদার সমান।
স্থানীয় নেতারা প্রায়ই কর্মসংস্থান ও সম্পত্তি করের সম্ভাবনায় ডেটা সেন্টার প্রকল্প সমর্থন করেন, যদিও বাস্তবে খুব বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় না। তবে সব নেতা সমর্থক নন; অনেকে বিরোধিতা করলেও প্রভাবশালী টেক কোম্পানি ও লবিস্টদের চাপে থমকে যান। অধ্যাপক মুলেনবাখের গবেষণায় দেখা গেছে, ছোট ও সংকুচিত শহরগুলোতেও এই চাপ বিদ্যমান। শেষ পর্যন্ত ডেটা সেন্টার প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া নির্ভর করে জনপ্রতিনিধিরা কীভাবে বিভিন্ন পক্ষের স্বার্থ ও রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষা করেন তার ওপর।



