ইকুয়েডরে বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষীর আসনে বসার সুযোগ পেল একটি পোষা কুকুর। ডায়ানা তুপিজা ও আন্দ্রেস আলকুইঙ্গা নামের এক প্রেমিক যুগল তাদের বিয়ের সাক্ষী হিসেবে বেছে নেন তাদের প্রিয় পোষা প্রাণী লুনাকে। পেকিনিজ জাতের এই কুকুরছানাটি কোনো মানুষ নয়, তবু বিয়ের সনদে নিজের থাবার ছাপ দিয়ে এক অভিনব ভূমিকা পালন করে।

লাতিন আমেরিকার বেশিরভাগ দেশে বিয়ের সাক্ষী হিসেবে কেবল মানুষই গ্রহণযোগ্য। কিন্তু ইকুয়েডর এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির সরকার সম্প্রতি ‘পোষা প্রাণিবান্ধব’ বিয়ের অনুমোদন দিয়েছে, যার উদ্দেশ্য পরিবারে পোষা প্রাণীদের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান। এর আগে আর্জেন্টিনা ও মেক্সিকোতেও কিছু বিয়েতে এমন অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। উল্লেখ্য, সনদে লুনার পায়ের ছাপের কোনো আইনি বৈধতা নেই; তবু সংশ্লিষ্ট দম্পতিদের কাছে এর আবেগময় মূল্য অপরিসীম।

গত মে মাস থেকে শুরু হওয়া এই রীতি অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ইকুয়েডরে ৫০টিরও বেশি দম্পতি তাদের প্রিয় বিড়াল বা কুকুরকে সাক্ষী রেখে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। পেশায় প্রকৌশলী ৩৮ বছর বয়সী কনে ডায়ানা জানান, প্রোগ্রামার স্বামী ৩১ বছর বয়সী আন্দ্রেসের মাথা থেকেই এই অভিনব বুদ্ধির জন্ম। কনের মা লুজ লিমা প্রথমে বিস্মিত হয়েছিলেন। তার ধারণা ছিল, বিয়ের সাক্ষী এমন কেউ হওয়া উচিত যার বুদ্ধি আছে এবং সে বুঝতে পারে কিসে সই করছে। তবে মেয়ের পছন্দের বিষয়ে আপত্তি জানালেও তিনি পরম মমতায় লুনার জন্য চমৎকার পোশাক বানিয়ে দিয়েছেন। তিনি হেসে মন্তব্য করেন, ‘যুগটাই এখন আধুনিকতার।’

ইকুয়েডরের সিভিল রেজিস্ট্রির পরিচালক ওটন রিভাদেনেরা ব্যাখ্যা করেন, আধুনিক পারিবারিক কাঠামোর প্রয়োজন মেটাতেই এই নিয়ম চালু করা হয়েছে। দেশটির সাম্প্রতিক জনশুমারির তথ্য বলছে, ১ কোটি ৯০ লাখ জনসংখ্যার এই দেশে প্রায় ৭৬ লাখ মানুষের ঘরে পোষা বিড়াল বা কুকুর রয়েছে। ইকুয়েডরে ১২ বছর বা তার কম বয়সী শিশুদের মোট সংখ্যার তুলনায় যা প্রায় দ্বিগুণ।

লুনার পায়ের ছাপ সম্বলিত বিশেষ সনদটির গায়ে লেখা আছে ‘প্রতীকী বিয়ের সনদ’। এই নথিতে পোষা প্রাণীর পায়ের ছাপ রাখার জন্য আলাদা জায়গা বরাদ্দ রয়েছে। ডায়ানা জানান, তার আরও তিনটি কুকুর ও একটি বিড়াল রয়েছে। সম্ভব হলে সবাইকে অনুষ্ঠানে আনতে পারলে তিনি আরও বেশি আনন্দিত হতেন। লুনা তাদের সকলের প্রতিনিধিত্ব করে বিয়েতে উপস্থিত থেকেছে।