থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি বিনোদন কেন্দ্রে সংঘটিত মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ৩০ জনে উন্নীত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনায় গুরুতর নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে এবং পুলিশ ইতোমধ্যেই তা তদন্ত শুরু করেছে।
দুর্যোগ থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তি এবং ঘটনাস্থলে প্রথম পৌঁছানো সংবাদকর্মীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ওই বারের অভ্যন্তরে জরুরি অবস্থায় বের হওয়ার দরজাগুলো তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। শুধু তাই নয়, জরুরি নির্গমন পথ বা এক্সিট চিহ্নিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সাইনবোর্ড বা নির্দেশক চিহ্নও সেখানে অনুপস্থিত ছিল। এই দুটি গুরুতর ত্রুটির কারণে বারটির ভেতরে আটকা পড়া মানুষজন দ্রুত বের হতে না পারায় হতাহতের ঘটনা আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পরপরই উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া আরও কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করায় নিহতের সংখ্যা ৩০-এ পৌঁছায়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বার কর্তৃপক্ষ অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত আবশ্যকীয় অনুমোদন ও ব্যবস্থা যথাযথভাবে মেনে চলেছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, জরুরি বহির্গমন পথের দরজায় তালা লাগানো এবং প্রয়োজনীয় সাইনেজ না থাকার কারণেই এই ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে।
স্থানীয় প্রশাসন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নগরীর অন্যান্য নাইটক্লাব ও বিনোদন কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়নের কথাও বিবেচনা করছে। ইতোপূর্বে ২০২৬ সালের জুলাইয়ের শুরুর দিকেও একই ধরনের একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল, যা বারবার বিনোদনকেন্দ্রগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
তদন্তকারী সংস্থা বারটির মালিক ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুরো ঘটনাটি এখনও সম্পূর্ণ তদন্তাধীন এবং হতাহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।


