আজ ২০ আগস্ট, বিশ্ব মশা দিবস। ১৮৯৭ সালের এই দিনে ব্রিটিশ চিকিৎসক স্যার রোনাল্ড রস স্ত্রী অ্যানোফেলিস মশার পেটে ম্যালেরিয়া পরজীবী শনাক্ত করেন। এই আবিষ্কারের মাধ্যমেই প্রথম প্রমাণিত হয় যে, মানুষের শরীরে ম্যালেরিয়া ছড়ানোর প্রধান বাহক মশা। সেই ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং মশাবাহিত রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করতে প্রতিবছর এ দিনটি পালন করা হয়।

চলতি বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, 'সবার জন্য সমান বিশ্ব গড়তে ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ তীব্রতর করা'। বাংলাদেশে প্রতিবছর ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়াসহ নানা প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বহু মানুষ। তাই দিবসটি উপলক্ষে মশা সংক্রান্ত নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে—কেন মশা কামড়ায়, শরীরে এর প্রভাব কী এবং কীভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, সে বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।

প্রচলিত ধারণার বিপরীতে, আক্ষরিক অর্থে মশা কখনো কামড়ায় না। কারণ, কামড়ানোর জন্য প্রয়োজন দাঁত, যা মশার নেই। মশা আসলে তার মুখের একটি বিশেষ অঙ্গ দিয়ে মানুষের কিংবা অন্য প্রাণীর ত্বক ফুটো করে রক্ত শোষণ করে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়াসহ নানা রোগ ছড়িয়ে পড়ে।

মানুষের শরীরে মশা ঢোকার বিষয়েও রয়েছে কৌতূহল। প্রশ্ন উঠেছে, নাক বা মুখ দিয়ে মশা বা অন্য কোনো পোকা ঢুকে পড়লে তা কি ফুসফুস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে? বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যনালীর গন্তব্য পাকস্থলী, ফলে মুখ দিয়ে ঢোকা পোকা সাধারণত পাকস্থলীতে গিয়ে পৌঁছায়। শ্বাসনালী দিয়ে ফুসফুসে ঢোকার ঘটনা অত্যন্ত বিরল, কারণ সেখানে পৌঁছালেও পরিবেশ প্রতিকূল হওয়ায় পোকাটি দীর্ঘদিন বাঁচতে পারে না।

মশা নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু কার্যকর পদ্ধতির কথা উঠে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা সিএসআইআরও এবং জেমস কুক ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা দেখিয়েছেন, পুরুষ এডিস মশা কামড়ায় না; শুধু স্ত্রী মশাই ডিম পাড়ার আগে রক্ত খায়। তারা বন্ধ্যা পুরুষ এডিস মশা কুইন্সল্যান্ডের নির্দিষ্ট এলাকায় ছেড়ে দিয়ে তিন মাসের মধ্যে মশার সংখ্যা ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সক্ষম হয়েছেন।

এ ছাড়া বিজ্ঞানীরা এখন 'মশা দিয়ে মশা দমনের' কৌশল নিয়ে কাজ করছেন। এডিস মশার জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে এমন মশা তৈরি করা হচ্ছে, যেগুলো প্রকৃতিতে ছেড়ে দিলে তাদের বংশধররা দীর্ঘদিন বাঁচতে পারবে না। এই রূপান্তরিত মশার মাধ্যমে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখে মশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে আশা করা হচ্ছে।

মশা কামড়ালে চুলকানি ও ফুলে যাওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। মশা যখন রক্ত শোষণ করে, তখন তার লালায় থাকা কিছু প্রোটিন মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় অ্যালার্জির সৃষ্টি করে, ফলে ওই স্থানে চুলকানি ও ফোলাভাব দেখা দেয়। এ ছাড়া সহজে মশা তাড়ানো যায় না কেন, কামড়ের মুহূর্তে টের পাওয়া যায় না কেন—এসব প্রশ্নের উত্তর নিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক কমিকও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে মশার আচরণ ও তা প্রতিরোধের উপায় সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।