নগরের ব্যস্ত জীবনে এক কাপ ভালো কফি যেন একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস। আবার সন্ধ্যা হলে সেই জায়গাই হয়ে ওঠে প্রিয়জনদের সঙ্গে আড্ডা কিংবা খাওয়াদাওয়ার উপযুক্ত একটি আস্তানা। রাজধানীর ধানমন্ডিতে ঠিক এমনই একটি অভিজ্ঞতা এক ছাদের নিচে তুলে আনতে যাত্রা শুরু করেছে ‘ইএল ক্যাফে’।

গত ১৯ আগস্ট ধানমন্ডির ক্যাফেটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেল গ্রুপের প্রতিনিধি ওভি ডিয়াজ ও রিপন বড়ুয়া। এছাড়া দেশের বিভিন্ন ফুড ব্লগার, ইনফ্লুয়েন্সার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং টেলিভিশন, প্রিন্ট ও ডিজিটাল মিডিয়ার সাংবাদিকরাও অংশ নেন এই আয়োজনে।

‘ইএল ক্যাফে’র যাত্রা শুধু নতুন একটি কফি শপ খোলার খবর নয়; বরং দিনের শুরু থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কফিকে কেন্দ্র করে একটি পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা তৈরির প্রয়াসই এখানে মুখ্য। দিনের বেলায় ক্যাফেটির পরিবেশ থাকে প্রাণবন্ত, আর সন্ধ্যা নামলেই সেই আবহে যোগ হয় বিস্ট্রোর আমেজ।

এটি প্রতিষ্ঠানটির তৃতীয় উদ্যোগ। এর আগে গুলশান ও বনানীতে চালু হয়েছে তাদের আরও দুটি ক্যাফে। বনানীর এসপ্রেসো লাউঞ্জের মান ও প্রস্তুত প্রণালির ধারাবাহিকতায় ধানমন্ডি শাখাতেও পরিবেশন করা হচ্ছে বিশেষভাবে রোস্ট করা কফি। কফির সুবাসের পাশাপাশি ক্যাফের নিজস্ব বেকারিতে তৈরি নানা খাবারের ঘ্রাণ মিলে এখানে তৈরি হয়েছে ভিন্ন এক আমেজ।

অতিথিদের জন্য থাকছে হাতে তৈরি ক্রোঁসো, কুকিজ, কেক, পেস্ট্রি ও বিভিন্ন ধরনের বেকড আইটেম। ফলে এক কাপ কফির সঙ্গে এই বেকারি পণ্যগুলো দিনের ক্লান্তির মধ্যে এনে দিতে পারে প্রশান্তির মুহূর্ত। তবে শুধু কফি কিংবা বেকারি আইটেমেই সীমাবদ্ধ নয় ‘ইএল ক্যাফে’র মেনু। এখানে রয়েছে প্রিমিয়াম ওয়াগিউ বিফ দিয়ে তৈরি বিশেষ গুরমে পদ। পাশাপাশি থাকছে হ্যান্ডক্রাফটেড বার্গার, তাজা সবজির সালাদ, সিগনেচার ব্রেকফাস্ট, আর্টিজান স্যান্ডউইচ ও পাস্তা। খাবারের পর মিষ্টি কিছুর জন্য আছে নানা ধরনের ডেজার্ট।

অর্থাৎ সকালের নাশতা থেকে শুরু করে বিকেলের কফি, কিংবা সন্ধ্যা-রাতের ডিনার—দিনের প্রতিটি সময়ের জন্য মেনুতে আলাদা আয়োজন রাখা হয়েছে। তাই শুধুমাত্র কফিপ্রেমীদের জন্যই নয়, যেকোনো সময় পূর্ণাঙ্গ খাবারের অভিজ্ঞতা নিতে চাইলেও একবার ঢুঁ মারা যেতে পারে এই ক্যাফেতে।

স্বাদের পাশাপাশি ‘ইএল ক্যাফে’র অভিজ্ঞতায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে পরিবেশ। সমসাময়িক ডিজাইনের সঙ্গে সবুজের ছোঁয়া মিলিয়ে সাজানো হয়েছে ক্যাফেটির ইন্টেরিয়র। উজ্জ্বল অথচ আরামদায়ক পরিবেশের পাশাপাশি অতিথিদের চাহিদা বিবেচনা করে তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের বসার ব্যবস্থা। কোথাও বন্ধুদের সঙ্গে গল্প, কোথাওবা কাজের ফাঁকে এক কাপ কফি, আবার কোনো কোণে পরিবারের সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটানোর সুযোগ—সবকিছুই মিলবে এখানে।

ধানমন্ডির কোলাহলপূর্ণ নগরজীবনে ‘ইএল ক্যাফে’ শুধু খাবারের ঠিকানা হয়ে থাকতে চায় না; বরং এটি হয়ে উঠতে চায় মন খুলে কিছুটা সময় কাটানোর নিরিবিলি জায়গা। কফির ঘ্রাণ, নিজস্ব বেকারির পণ্য, প্রিমিয়াম খাবার ও আরামদায়ক পরিবেশ—সবকিছু মিলিয়ে ধানমন্ডির ক্যাফে সংস্কৃতিতে নতুন এক মাত্রা যোগ করার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে এই ক্যাফে।