এক দশক আগে কাঁচি থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্তই ভারতীয় নারী রেণু ধরিয়ালকে এনে দিয়েছে বিশ্বরেকর্ডের স্বীকৃতি। তাঁর প্রায় ৯ ফুট দীর্ঘ ঝলমলে চুল এখন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান করে নিয়েছে। উত্তরাখণ্ডের হলদ্বানির বাসিন্দা রেণুর চুলের আনুষ্ঠানিক মাপ ২৭১ দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার, যা ৮ ফুট ১০ ইঞ্চির সমান। জীবিত নারীদের মধ্যে সবচেয়ে লম্বা চুলের অধিকারী হিসেবে আগে এই রেকর্ডটি ছিল ইউক্রেনের আলিয়া নাসিরোভার দখলে; তাঁর চুলের দৈর্ঘ্য ছিল ২৫৭ দশমিক ৩৩ সেন্টিমিটার। সেই দৈর্ঘ্য ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন রেণু।
শুধু চুল না কাটাই নয়, এই দীর্ঘ পথচলায় তাঁকে নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমেও যেতে হয়েছে। দৈনন্দিন জীবনে এত লম্বা চুল সামলানো যে কতটা চ্যালেঞ্জিং, তা কল্পনা করাও কঠিন। চুল ধোয়া, আঁচড়ানো, শুকানো কিংবা জট ছাড়ানো—প্রতিটি কাজই তাঁর জন্য হয়ে ওঠে ঘণ্টার পর ঘণ্টার আয়োজন। চুলের গোড়া ও আগা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং জট না লাগে, সেদিকে সতর্ক নজর রাখতে হয় তাঁকে। সাধারণত খোলা চুলে চলাফেরা করেন না তিনি; মাটিতে চুল লেগে যাওয়া বা কোথাও আটকে যাওয়ার আশঙ্কা এড়াতে দৈনন্দিন জীবনে চুল একটি বড় বেণি করে রাখেন।
চুলের যত্নে রেণু প্রাকৃতিক পদ্ধতিকেই প্রাধান্য দেন। বাণিজ্যিক হেয়ার ট্রিটমেন্ট, দামি সেলুনের সেবা কিংবা কঠিন রাসায়নিকযুক্ত পণ্য—এসব কিছুই এড়িয়ে চলেন তিনি। নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ঘরেই তৈরি করেন রাসায়নিকমুক্ত জৈব শ্যাম্পু ও হেয়ার অয়েল। দীর্ঘ চুলের সৌন্দর্যের পাশাপাশি চুলের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য ধরে রাখাকেও তিনি গুরুত্ব দেন। এই অভিজ্ঞতা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যচর্চার নানা পদ্ধতি ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে রাসায়নিকমুক্ত হেয়ার কেয়ার পণ্যের রেসিপিসহ কীভাবে নিয়মিত চুলের যত্ন নিতে হয় এবং জট বা চুল ভেঙে যাওয়া এড়ানোর উপায় নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন তিনি।
প্রায় এক দশক ধরে চুল বড় করার এই যাত্রা শুধু ধৈর্যেরই পরিচয় দেয় না, ব্যক্তিগত অধ্যবসায়েরও নিদর্শন। ২০১৫ সালে শুরু হওয়া সেই যাত্রা শেষ পর্যন্ত রেণুর জন্য নিয়ে এসেছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এই লম্বা চুল এখন তাঁর সৌন্দর্যের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের পরিচর্যা ও নিষ্ঠারও প্রতীক হয়ে উঠেছে।




