কোনো সম্পর্কের শুরুতে কারো প্রতি তীব্র আকর্ষণ, কৌতূহল এবং মানসিক ব্যস্ততা তৈরি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। অনেক সময় এমন হয় যে, কোনো কাজে মন বসে না, খাবারের স্বাদ পাওয়া যায় না, ঘুম আসে না—সব সময় ওই মানুষটির কথা ভাবতে থাকেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বারবার স্টক করা, ছবি জুম করে দেখা, আশপাশের কথা মাথায় না নেওয়া—এসব লক্ষণকে মনোবিজ্ঞানে বলা হয় ‘লিমারেন্স’। সাধারণত প্রেমের প্রথম দিকে এ রকম অনুভূতি তৈরি হয় এবং কয়েক সপ্তাহ বা মাস পর্যন্ত স্থায়ী থাকতে পারে। এই সময় মস্তিষ্কে ডোপামিনের কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় মনে হয়, ওই মানুষটিই যেন জীবনের কেন্দ্র। তবে অনুভূতিটি স্বাভাবিক হলেও, তা যেন জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণ না নেয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। বিশেষ করে যখন এক পক্ষ অস্থির থাকে এবং অপর পক্ষ শান্ত, তখন মানসিক চাপ আরও বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে সামলানোর জন্য কিছু কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে।

প্রথমত, নিজের অনুভূতিকে স্বীকার করে নিতে হবে, কিন্তু অনুভূতির প্রতিটি তাগিদকে মেনে চলা উচিত নয়। মাঝরাতে মেসেজ পাঠানোর ইচ্ছা বা সব কিছু জানানোর আগ্রহ থাকলেও নিজের লাগাম নিজের হাতে রাখার চেষ্টা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কাজ, পড়াশোনা, ব্যায়াম, ঘুম, বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে সময়—এসব নিয়মিত রুটিন অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। তীব্র অনুভূতি থাকলেই যে গভীর সম্পর্ক তৈরি হবে, এমনটা নয়, তাই নিজের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা যেন ব্যাহত না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। তৃতীয়ত, মস্তিষ্ককে অন্য কাজে ব্যস্ত রাখতে হবে—লেখালেখি, রান্না, বই পড়া, নতুন কিছু শেখা বা শরীরচর্চার মতো এমন কাজ করতে হবে, যাতে মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজন হয়।

চতুর্থত, নিজের অনুভূতিকে বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা দরকার। নিজেকে প্রশ্ন করা যেতে পারে—‘আমি কি মানুষটিকে সত্যিই চিনি, নাকি তার সম্পর্কে আমার কল্পনাকেই বেশি ভালোবাসছি?’ পঞ্চমত, বারবার অনলাইন স্ট্যাটাস দেখা, রিপ্লাই না এলে দুশ্চিন্তা করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত নজর রাখা—এসব অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। ষষ্ঠত, সম্পর্ককে সময় দিতে হবে। বিশ্বাস, বোঝাপড়া ও ভালোবাসা ধীরে ধীরে তৈরি হয়; শুরুতেই সব উত্তর পেতে চাইলে উল্টো চাপ বাড়তে পারে।

সুস্থ সম্পর্কের লক্ষণ হলো, সেই সম্পর্ক জীবনে আনন্দ যোগ করবে, কিন্তু কাজ, ঘুম, আত্মসম্মান বা দৈনন্দিন কার্যক্ষমতাকে গ্রাস করবে না। তবে যদি দেখা যায়—কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে কাজে বা পড়াশোনায় মনোযোগ রাখা যাচ্ছে না, খাওয়া-ঘুম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, অপর পক্ষের প্রতিক্রিয়ার ওপর মানসিক অবস্থা পুরোপুরি নির্ভর করছে, এবং উদ্বেগ এত বেড়ে যাচ্ছে যে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ছে, তাহলে একজন মানসিক স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা উচিত। প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনায় ‘পাপি লাভ’, ‘ডিলিউশনশিপ’, ‘সিচুয়েশনশিপ’, ‘সফট লঞ্চিং’, ‘ব্রেডক্র্যাম্বিং’-এর মতো শব্দগুলোও প্রায়ই শোনা যাচ্ছে।