বাবা যেন পরিবারের সেই মানুষ, যিনি সবার কাছে পরিচিত অথচ তাঁর ভেতরের জগৎটা অনেকের কাছেই অজানা। কথাবার্তায় সংক্ষিপ্ত, অনুভূতি প্রকাশে দ্বিধান্বিত কিংবা উপদেশ দিতেই যিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন—এমন বাবার জীবনের নানা অধ্যায় সম্পর্কে সন্তানদের জানা থাকে খুবই সামান্য। অথচ মাত্র একটি আন্তরিক প্রশ্নই বদলে দিতে পারে বাবা-সন্তানের সম্পর্কের গভীরতা।
বাবা দিবসকে সামনে রেখে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস মনোবিদ, গবেষক, লেখক, সম্পর্কবিশেষজ্ঞ ও পরিচিত ব্যক্তিদের মতামতের ভিত্তিতে এমন কিছু প্রশ্ন তালিকাবদ্ধ করেছে, যা বাবার সঙ্গে অর্থপূর্ণ ও আবেগঘন কথোপকথনের সূচনা করতে পারে। প্রশ্নগুলো চারটি ভাগে বিভক্ত—শৈশব ও বেড়ে ওঠা, বাবা হওয়ার অভিজ্ঞতা, আজকের জীবন ও ভবিষ্যৎ, এবং জীবনের গভীর শিক্ষা।
শৈশব ও বেড়ে ওঠা নিয়ে জানতে চাওয়া যায়—ছোটবেলার সবচেয়ে কাছের বন্ধুরা কারা ছিলেন, তাঁদের সঙ্গে কাটানো সময় কেমন ছিল কিংবা অবসরে কী করতেন। এছাড়া পরিবারে তাঁর ভূমিকা, ভাইবোনদের সঙ্গে সম্পর্ক, আদর্শ বাবা সম্পর্কে তাঁর ধারণা, বেড়ে ওঠার বাড়ির পরিবেশ, খেলার জায়গা, পছন্দের খাবার এবং প্রথম চাকরির অভিজ্ঞতা সম্পর্কেও জানতে পারেন সন্তানরা।
বাবা হওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্নের তালিকায় রয়েছে—মা-বাবার পরিচয় ও প্রেমের গল্প, প্রথমবার সন্তানকে কোলে নেওয়ার স্মৃতি, সন্তানের দেওয়া সবচেয়ে প্রিয় উপহার বা প্রশংসা, শৈশবে কোন বিষয়টি সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রেখেছিল, দাদার সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে তাঁকে বাবা হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে, সন্তানকে বড় করার সময় সবচেয়ে সহজ ও কঠিন দিকগুলো এবং সন্তানকে নিয়ে সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতি।
বর্তমান জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে জানতে চাওয়া যায়—এখন জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ বিষয় কী, বড় হয়ে যাওয়া সন্তানের বাবা হওয়ার সবচেয়ে কঠিন দিকটি কী, বয়সের সঙ্গে জীবনের অগ্রাধিকার কীভাবে বদলেছে, বর্তমান জীবন কি স্বপ্নের মতো নাকি সম্পূর্ণ ভিন্ন, সন্তানের কাছ থেকে তাঁর প্রত্যাশা কী।
সবশেষে জীবনের গভীর শিক্ষা নিয়ে প্রশ্ন—জীবনে পাওয়া সেরা উপদেশ কী এবং কে দিয়েছিলেন, আগে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন কিন্তু এখন মত বদলেছেন এমন কোনো বিষয় আছে কি না, দাদাকে কোনো কথা বলা হয়নি যা এখন আফসোস থেকে গেছে, শৈশবের কোনো একটি দিন ফিরে পেলে কোন বয়সটি বেছে নিতেন, সন্তানের জন্য সবচেয়ে গভীর কামনা কী, বাবা কি সুখী, এবং জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কী।
প্রশ্নগুলোর উত্তর না জানলে বাবার সঙ্গে বসে চা-কফির আড্ডায় এগুলো জিজ্ঞেস করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।




