হিজরি বর্ষপঞ্জির তৃতীয় মাস রবিউল আউয়াল মুসলিম উম্মাহর কাছে বিশেষ মর্যাদার। এই মাসেই মহানবী (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। ইসলামি জীবনদর্শনে সময় বা মাসকে কেন্দ্র করে কোনো আনুষ্ঠানিকতা নেই; বরং সময়ের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমেই পরকালের পাথেয় সংগ্রহ করা সম্ভব। রবিউল আউয়াল মাস সুন্নাহর আলোকিত পথে ফিরে আসার আহ্বান জানায়। নবীজির আদর্শ অনুসরণ করে চরিত্র গঠন, আল্লাহর নৈকট্য অর্জন এবং সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এ মাসটি হতে পারে একটি শুভ সূচনা।

এই মাসকে ইবাদত, জিকির ও মানবকল্যাণমূলক কাজে বরকতময় করতে পাঁচটি সহজ আমলের কথা বলা হয়েছে।

প্রথমত, মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো বেশি বেশি দরুদ পাঠ। কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর ওপর দরুদ পেশ করেন। হে ইমানদারগণ, তোমরাও তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করো এবং তাঁর প্রতি সালাম পেশ করো।" (সুরা আহজাব, আয়াত: ৫৬) দরুদ পাঠে আল্লাহর অফুরন্ত রহমত লাভ হয়, সাথে সাথে অন্তরের দুশ্চিন্তা ও কলুষতা দূর হয়ে আত্মিক প্রশান্তি আসে।

দ্বিতীয়ত, আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, নবীজি প্রতি সপ্তাহে সোম ও বৃহস্পতিবার নফল রোজা রাখতেন (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৭৪৫)। সোমবার রোজা রাখার কারণ জানতে চাইলে নবীজি বলেছিলেন, এ দিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন। তাই রবিউল আউয়াল মাসে সুন্নাহ অনুসরণে সোমবার নফল রোজা রাখা সুন্নত পালনের একটি অনন্য মাধ্যম।

তৃতীয়ত, নিজের ধনসম্পদ থেকে সমাজের দরিদ্র ও অনাহারী মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া নবীজির সুমহান আদর্শ। মহানবী (সা.) বলেছেন, "দান গুনাহকে এমনভাবে নিঃশেষ করে দেয়, যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়।" (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৬১৬) রবিউল আউয়াল মাসে সামর্থ্য অনুযায়ী দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ ও সাহায্য-সহযোগিতা বাড়ালে আল্লাহর বিশেষ সন্তুষ্টি ও বরকত লাভ করা যায়।

চতুর্থত, সমাজের কোনো দরিদ্র বা অসহায় মানুষ অসুস্থতায় ভুগলে সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, ওষুধের বন্দোবস্ত করা কিংবা অন্তত তাঁকে দেখতে গিয়ে খোঁজখবর নেওয়া নিঃস্বার্থ নেক আমল। অসুস্থ ভাইয়ের সেবা করা ও চিকিৎসার পাশে দাঁড়ানো নবীজির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের জীবন্ত সামাজিক ও মানবিক রূপ।

পঞ্চমত, তাহাজ্জুদ নামাজ প্রিয় নবীজির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ। ফরজ নামাজের পর এটিই আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় নামাজ। মহানবী (সা.) বলেছেন, "রাতের বেলা নামাজ আদায় করো যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে, তবেই তোমরা পরম শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৪৮৫) রবিউল আউয়াল মাসকে উসিলা করে শেষ রাতে সেজদানত হয়ে আল্লাহর কাছে পাপের ক্ষমা ও হেদায়েত প্রার্থনা করা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের মাধ্যম।

পরিশেষে বলা যায়, এই মোবারক মাসে বেশি বেশি দরুদ পাঠ, নফল রোজা, দান-সদকা এবং তাহাজ্জুদের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আহ্বান জানানো হয়েছে।