গ্যাসের ঘাটতির কারণে রান্নাবান্না করতে গিয়ে বহু মানুষ নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে কিছু সাধারণ ভুল অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটে যায়, যা বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে। গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্টারপ্রেনিউরশিপ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা শরীফের সঙ্গে আলোচনা করে এসব ভুল চিহ্নিত করা হয়েছে। নিচে সেগুলো তুলে ধরা হলো:
প্রথমত, সংকটের সময়ে অতিরিক্ত সিলিন্ডার গ্যাস মজুত করার প্রবণতা দেখা দেয়। নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে যেমন এটি ঠিক নয়, তেমনি নিরাপত্তার জন্যও এটি ঝুঁকিপূর্ণ। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সিলিন্ডার ঘরে রাখলে যেকোনো সময় বিস্ফোরণের আশঙ্কা থাকে। অল্প অসতর্কতাই বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, গ্যাস না থাকলে চুলার নব অন রেখে দেওয়া বা বারবার অন-অফ করা উচিত নয়। লাইনে অল্প গ্যাস আসলেও তা জমে রান্নাঘরে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এমনকি চুলা জ্বলছে না, তবুও নব খোলা রাখলে ধীরে ধীরে গ্যাস জমে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তৃতীয়ত, সব ধরনের চুলা সব ধরনের গ্যাসের জন্য উপযোগী নয়। সাপ্লাই গ্যাসের চুলায় সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করলে বার্নারের ছিদ্রের আকার ও গ্যাসের চাপের পার্থক্যের কারণে মারাত্মক দুর্ঘটনা হতে পারে। তাই সিলিন্ডার গ্যাসের জন্য নির্দিষ্ট চুলা ব্যবহার করা আবশ্যক।
চতুর্থত, চুলার শিখা হলুদ বা কমলা রঙের হলেও অনেকে রান্না চালিয়ে যান। অপর্যাপ্ত দহনের কারণে এমন শিখা তৈরি হয়, যা থেকে কার্বন মনোক্সাইড নির্গত হতে পারে। এই গ্যাস জমলে পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। তাই পর্যাপ্ত নীল শিখা না দেখা পর্যন্ত রান্না না করাই ভালো। বারবার শিখা নিভে গেলে বা রং বদলালে কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।
পঞ্চমত, সময় বাঁচানোর জন্য একাধিক চুলা জ্বালিয়ে রাখা ঠিক নয়। অল্প আঁচে একাধিক চুলা ব্যবহার করলে রান্না বেশি সময় লাগে। বরং একটি চুলা জ্বালিয়ে ধাপে ধাপে রান্না করা অধিক কার্যকরী।
ষষ্ঠত, সংকটের সময় অসতর্ক হয়ে পড়া বিপজ্জনক। চুলা জ্বালানোর আগে ও চলাকালে রান্নাঘরে বাতাস চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। দরজা-জানালা খুলে দিন, এগজোস্ট ফ্যান চালান। গ্যাস লিকেজ সন্দেহ হলে কোনো বৈদ্যুতিক সুইচ অন বা অফ করবেন না, আগুন জ্বালাবেন না। সিলিন্ডার কাত করে বা গড়িয়ে আনা যাবে না; সব সময় সোজা অবস্থায় রাখতে হবে।
সপ্তমত, বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলো উপেক্ষা করলে সমস্যা আরও বাড়ে। চুলা ও পাত্র পরিষ্কার রাখলে গ্যাস সঠিকভাবে কাজে লাগে। একই পদে একাধিক খাদ্যদ্রব্য মিশিয়ে রান্না করলে কম পাত্রে পুষ্টি মেলে। খাদ্য ছোট আকারে কাটলে জ্বালানি কম লাগে। ঢেকে রান্না করলে সময় সাশ্রয় হয়। প্রেশার কুকার ও স্টিম কুকারের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুত রান্না করা যায়। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করলে তার সঠিক নিয়ম জেনে নিন।




